ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাকিতে চা দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

এক কাপ চা নিয়ে কত কিছুই না ঘটতে পারে। গ্রাম বা শহরের চায়ের দোকানে আড্ডার পাশাপাশি মাঝে মাঝে বড় ধরনের ঝগড়াও বেঁধে যায়। এমনই এক অবাক করা ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। সামান্য বাকিতে চা খাওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষ বেধে যায়। এই তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে অন্তত ১০ জন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকালে শৈলকুপা পৌরসভার খালধারপাড়া এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দা রিপন হোসেন প্রতিদিনের মতো সকালে গ্রামের শাহজাহানের চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। রিপনের কাছে দোকানদারের আগের কিছু টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকার পরিমাণ হয়তো খুব সামান্য, হয়তো সব মিলিয়ে তা $১ (এক ডলার) বা মাত্র ১০০ থেকে ১১০ টাকার মতো হবে। কিন্তু আগের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় দোকানি শাহজাহান তাকে নতুন করে বাকিতে চা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

এই সামান্য বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। রিপন রেগে গিয়ে দোকানদার শাহজাহানকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রকাশ্যেই হাতাহাতি বেধে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এই ছোট ঝগড়ার খবর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রিপন ও শাহজাহানের পক্ষের লোকজন খবর পেয়ে যার যার বাড়ি থেকে লাঠি, রামদা, লোহার রড ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

দেখতে দেখতে পুরো খালধারপাড়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর অন্ধের মতো হামলা চালায়। গ্রামের সাধারণ মানুষ ভয়ে এদিক-সেদিক ছুটোছুটি শুরু করেন। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারিতে অন্তত ১০ জন ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। তাদের অনেকের মাথা ফেটে যায় এবং শরীর থেকে প্রচুর রক্ত ঝরতে থাকে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

মারামারি থামার পর স্থানীয় সাহসী কয়েকজন মানুষ এগিয়ে আসেন। তারা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাহবুব আলম পারভেজ জানান, তারা আহত রোগীদের দ্রুত ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করেছেন। কয়েকজন রোগীর আঘাত বেশ গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

আমাদের সমাজে মানুষের সহ্য ক্ষমতা দিন দিন কীভাবে কমে যাচ্ছে, এই ঘটনা তার একটি বড় প্রমাণ। স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, এখনকার মানুষ ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মারামারি শুরু করে দেয়। গ্রামগঞ্জে এখন যে পরিমাণ মামলা বা মারামারি হয়, তার প্রায় ৩০% থেকে ৪০% ঘটনার পেছনে থাকে এমন সব তুচ্ছ কারণ। একটু ধৈর্য ধরলে এবং একে অপরের সাথে বসে কথা বললে এই ধরনের রক্তপাত খুব সহজেই এড়ানো যায়। অযথাই গ্রামের মানুষ এমন সংঘাতে জড়িয়ে নিজেদের শারীরিক ও আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনেন।

খবর পেয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেন। তিনি সাথে সাথে একদল পুলিশ সদস্যকে খালধারপাড়া এলাকায় পাঠান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দাঙ্গাবাজদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত করে। ওসি জানান, সামান্য চা খাওয়া নিয়ে এই মারামারির ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। বর্তমানে ওই এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে দুই পক্ষের মধ্যে আবার কোনো ঝামেলা না হয়, সেজন্য সেখানে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ