রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরার লাইসেন্স দিল বায়েরা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ভরার চূড়ান্ত কমিশনিং লাইসেন্স দিয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করে।

বায়েরার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই লাইসেন্স তুলে দেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল ইসলামের হাতে। দেশি এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কঠিন যাচাই-বাছাইয়ের পর এই অনুমতি দিয়েছেন। এই অনুমোদনের মানে হলো, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরার জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া জানান, প্রকল্পের কর্মকর্তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব নিয়ম মেনে কারিগরি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ করেছেন। তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব কাজ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহেই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ভরা শুরু করবে। তারা খুব শিগগিরই এর সুনির্দিষ্ট তারিখ সবাইকে জানিয়ে দেবেন।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে জ্বালানি ভরার ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনপিসিবিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, প্রকৌশলীরা জ্বালানি ভরার কাজ শেষ করার পর ধাপে ধাপে পরীক্ষা করে চুল্লিটিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করবেন। জ্বালানি ভরার মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই এই প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সরকার আশা করছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এখান থেকে পুরোপুরি পুরোদমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

এর আগে গত ৭ এপ্রিল কর্তৃপক্ষ এই জ্বালানি ভরার কাজটি শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ছোট একটি সমস্যা দেখা দেয়। বড় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তারা তখন কাজ কিছুটা পিছিয়ে দেন। পরে প্রকৌশলীরা সব কিছু পুনরায় পরীক্ষা করেন এবং নিরাপত্তার মান আরও উন্নত করেন। সব ত্রুটি দূর করার পরই বায়েরা লাইসেন্স দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

দেশের মানুষের বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রূপপুর কেন্দ্রটি একটি বিশাল ভূমিকা রাখবে। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় তৈরি এই মেগা প্রকল্পের মোট খরচ প্রায় $১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট একাই ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পুরো প্রকল্প চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিদ্যুতের কারণে শিল্প কারখানায় উৎপাদন খরচ অন্তত ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমে আসতে পারে।

ড. জাহেদুল আরও জানান, তারা এই প্রকল্পে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কোনোভাবেই যাতে ছোটখাটো কোনো ত্রুটি না থাকে, সেদিকে সবার কড়া নজর রয়েছে। প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিশাল একটি অংশ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধা পাবে। এটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে তুলবে এবং শিল্প খাতে বড় পরিবর্তন আনবে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ