নারীর ক্ষমতায়নে অর্জন ও সীমাবদ্ধতা বর্তমান চিত্র

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

আমাদের সমাজের একটি খুব প্রচলিত কথা হলো, “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।” যুগ যুগ ধরে এই কথাটি বলে নারীদের মূলত ঘরের চারদেয়ালের মাঝেই আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ আর নারী শুধু রান্নাঘর বা সন্তান লালন-পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা এখন ঘরের গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশ পর্যন্ত জয় করছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের এই এগিয়ে আসাকেই আমরা সহজ ভাষায় ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ বলে থাকি। ক্ষমতায়ন মানে শুধু চাকরি করা বা টাকা রোজগার করা নয়; নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারাই হলো প্রকৃত ক্ষমতায়ন।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের দিকে তাকালে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন দেখলে সত্যি বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। একসময় যে দেশে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোকে ‘পয়সা নষ্ট’ মনে করা হতো, সেই দেশের মেয়েরাই আজ পরীক্ষায় ছেলেদের চেয়ে ভালো ফল করছে। কিন্তু খবরের কাগজের পাতা উল্টালেই আমরা আবার এক ভিন্ন ও ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি হই। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য হত্যা আর বাল্যবিবাহের খবরগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, নারীর ক্ষমতায়নের পথটি এখনো কতটা অমসৃণ। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নারীর ক্ষমতায়নে আমরা ঠিক কতটা পথ পাড়ি দিয়েছি এবং কোথায় এসে বারবার হোঁচট খাচ্ছি—অর্থাৎ আমাদের অর্জন ও সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি সুস্পষ্ট বিশ্লেষণ আজ অত্যন্ত জরুরি।

নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের অর্জনসমূহ

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের কাছে একটি রোল মডেল বা উদাহরণ হিসেবে পরিণত হয়েছে। আমাদের এই অর্জনের খাতাটি বেশ সমৃদ্ধ। চলুন দেখে নিই কোন কোন ক্ষেত্রে নারীরা নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য ও মেয়েদের অগ্রযাত্রা

নারীর ক্ষমতায়নের সবচেয়ে বড় ও প্রথম হাতিয়ার হলো শিক্ষা। আজ থেকে বিশ-পঁচিশ বছর আগেও গ্রামের অনেক মেয়ে প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই ঝরে পড়ত। কিন্তু সরকারের উপবৃত্তি প্রকল্প, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে আজ চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের উপস্থিতির হার বেশি। শুধু উপস্থিতিতেই নয়, এসএসসি (SSC) এবং এইচএসসি (HSC) পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকালেও দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া বা পাসের হারের দিক দিয়ে মেয়েরা ধারাবাহিকভাবে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে থাকছে। উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েরা এখন গ্রাম ছেড়ে শহরের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। শিক্ষা তাদের নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছে।

অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থানে নারীর অবদান

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খুঁটি হলো তৈরি পোশাক খাত বা গার্মেন্টস শিল্প। আর এই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি হলো নারী। আজ দেশের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এই খাতে কাজ করছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী। গ্রামের যে মেয়েটি একসময় পরিবারের বোঝা ছিল, সে আজ নিজের উপার্জনে সংসার চালাচ্ছে, ভাই-বোনের পড়াশোনার খরচ দিচ্ছে।

শুধু পোশাক শিল্প নয়, ব্যাংকিং খাত, করপোরেট অফিস, চিকিৎসা, শিক্ষকতাসহ এমন কোনো পেশা নেই যেখানে নারীরা সফলতার সাথে কাজ করছেন না। এছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে ই-কমার্স বা এফ-কমার্সের (F-commerce) মাধ্যমে লাখ লাখ নারী আজ ঘরে বসেই সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। নিজের উপার্জিত টাকা নারীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ক্ষমতায়নের একটি বিশাল মাইলফলক।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি অনন্য উদাহরণ। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার সবাই নারী। এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে বা স্থানীয় সরকারে (যেমন ইউনিয়ন পরিষদ) নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামের সাধারণ নারীরাও আজ রাজনীতি ও সমাজ পরিচালনায় সরাসরি ভূমিকা রাখছেন।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। জেলা প্রশাসক (DC), পুলিশ সুপার (SP), জজ, ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনেও বাংলাদেশের নারীরা সাহসিকতার সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস

একসময় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে গ্রামে প্রচুর মায়ের মৃত্যু হতো। কিন্তু গত দুই দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ার কারণে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। নারীদের গড় আয়ুও এখন পুরুষদের চেয়ে বেশি। নারীরা এখন নিজেদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন, যা তাদের ক্ষমতায়নের একটি ইতিবাচক দিক।

বর্তমান সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জসমূহ

আমাদের অর্জনগুলো যেমন সত্যি, তেমনি এর উল্টোপিঠে থাকা সীমাবদ্ধতা আর চ্যালেঞ্জগুলোও কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। এই সীমাবদ্ধতাগুলোই নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও দ্বৈত বোঝা (Double Burden)

সমাজের বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় নারীরা অনেক এগিয়েছে, কিন্তু আমাদের সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি খুব একটা বদলায়নি। এখনও মনে করা হয়, ঘরের কাজ, রান্না করা বা সন্তান পালনের দায়িত্ব শতভাগ নারীর। একজন নারী যখন বাইরে সারাদিন কাজ করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরেন, তখন তাকে আবার একা হাতে সংসারের সব কাজ সামলাতে হয়। একে বলা হয় নারীর ‘দ্বৈত বোঝা’ বা ডাবল বার্ডেন। কর্মজীবী নারী হলেও পরিবারে তাকে কোনো বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয় না। বরং সমাজ তার কাছে আশা করে সে যেন একই সাথে একজন সফল চাকরিজীবী এবং একজন নিখুঁত গৃহিণী হয়। এই অবাস্তব প্রত্যাশা ও মানসিক চাপ নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা

নারীর ক্ষমতায়নের পথে সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর সীমাবদ্ধতা হলো নারীর প্রতি সহিংসতা। একটি মেয়ে যখন রাস্তা দিয়ে হাঁটে, তখন তাকে নানা ধরনের কটু কথা বা ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। বাসে, ট্রেনে বা কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি।

ঘরের ভেতরের চিত্র আরও ভয়াবহ। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এবং অনেক ক্ষেত্রে হত্যার মতো ঘটনা আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটছে। এছাড়া ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির খবর প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে আসে। একটি স্বাধীন দেশে একজন নারী যদি দিনে বা রাতে নির্ভয়ে রাস্তায় চলতে না পারে, নিজের ঘরেও যদি সে নিরাপদ না থাকে, তবে সেই দেশের নারীর ক্ষমতায়ন কখনোই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।

কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা

শিক্ষিত নারীরা হয়তো সরকারি বা বড় করপোরেট চাকরিতে সমান বেতন পাচ্ছেন, কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে (যেমন- কৃষিকাজ, ইটভাটা বা দিনমজুরের কাজ) নারীদের অবস্থা খুবই করুণ। একই সমান কাজ করার পরও একজন নারী শ্রমিককে পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে অনেক কম মজুরি দেওয়া হয়।

এছাড়া কর্মজীবী মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত ডে-কেয়ার সেন্টার (Daycare center) বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র না থাকায়, অনেক প্রতিভাবান নারীকে সন্তান জন্মের পর বাধ্য হয়ে নিজের স্বপ্নের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব শৌচাগারের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারা মানসিক বা যৌন হয়রানির শিকার হওয়াও নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা।

বাল্যবিবাহের নীরব অভিশাপ

আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হলেও, ইউনিসেফ (UNICEF) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে বাংলাদেশ এখনো বাল্যবিবাহের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম সারিতে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র বাবা-মায়েরা মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। সমাজের বখাটেদের হাত থেকে মেয়েকে বাঁচাতে অথবা অভাবের কারণে তারা খুব অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন। একটি মেয়ের যখন নিজের শরীর ও মন সম্পর্কেই পুরোপুরি ধারণা তৈরি হয় না, তখন তাকে সংসারের মতো বড় দায়িত্ব নিতে হয়। বাল্যবিবাহের কারণে একটি মেয়ের পড়াশোনা, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ সবকিছু এক নিমিষেই শেষ হয়ে যায়, যা ক্ষমতায়নের একেবারে বিপরীত চিত্র।

সম্পত্তিতে সমান অধিকারের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা

অর্থনৈতিকভাবে অনেক নারী নিজের পায়ে দাঁড়ালেও, তাদের উপার্জিত টাকার ওপর তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অনেক সময়ই থাকে না। বাবা, ভাই বা স্বামীর ইচ্ছাতেই সেই টাকা খরচ হয়। এছাড়া আমাদের দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক আইনের কারণে পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীরা পুরুষদের সমান অধিকার পান না। সম্পত্তির এই বৈষম্য নারীদের অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল করে রাখে। পরিবারে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আজও নারীদের মতামতকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার উপায়

নারীর ক্ষমতায়নের এই অসম্পূর্ণ চিত্রটিকে যদি আমরা একটি সুন্দর ও সফল রূপ দিতে চাই, তবে সমাজ, রাষ্ট্র এবং প্রতিটি পরিবারকে একযোগে কাজ করতে হবে।

প্রথমত, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। আর এই পরিবর্তন শুরু করতে হবে পরিবার থেকে। ছেলেশিশুর মতো কন্যাসন্তানকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বড় করতে হবে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়, ছেলেদেরও করা উচিত—এই শিক্ষা পরিবার থেকেই দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, নারীর প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। আইন আছে, কিন্তু সেই আইনের কঠোর ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়।

তৃতীয়ত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু আইন নয়, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্য প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন বাধ্যতামূলক করতে হবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়াতে হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, নারীর ক্ষমতায়ন কোনো গন্তব্য নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের নারীরা অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে যে অবস্থান তৈরি করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষা থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও রাজনীতি—সব জায়গায় আজ নারীর সদর্প পদচারণা আমাদের আশাবাদী করে তোলে।

কিন্তু মুদ্রার উল্টোপিঠের বাস্তবতাকে আমরা কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারি না। সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, বৈষম্য, বাল্যবিবাহ আর সহিংসতার মতো সীমাবদ্ধতাগুলো আজও নারীর পায়ে শেকল পরিয়ে রেখেছে। কাগজে-কলমে বা সংবিধানে নারীর সমান অধিকারের কথা বলা থাকলেও বাস্তব জীবনে তার পুরোপুরি প্রতিফলন আজও ঘটেনি।

প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই নিশ্চিত হবে, যখন একজন নারী নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারবেন, যখন সম্পত্তির অধিকার সমান হবে, এবং যখন মাঝরাতে একা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কোনো নারীকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে ভুগতে হবে না। সমাজকে বুঝতে হবে যে, নারীকে পেছনে ফেলে রেখে কোনো দেশ বা জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। তাই অর্জনগুলো নিয়ে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে, আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করার জন্য নিরলস কাজ করে যেতে হবে। পুরুষ ও নারী যখন একে অপরের প্রতিযোগী না হয়ে সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করবে, কেবল তখনই নারীর ক্ষমতায়ন তার পূর্ণতা পাবে এবং আমরা একটি বৈষম্যহীন, সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে পারব।


সম্পর্কিত নিবন্ধ