যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাঘাটার সাইদুর রহমান রয়েল, গাইবান্ধায় আনন্দের জোয়ার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার সন্তান মো. সাইদুর রহমান (রয়েল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে একটি বড় দায়িত্ব পেয়েছেন। তাকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই খবর নিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই সাঘাটা উপজেলা ও পুরো গাইবান্ধা জেলাজুড়ে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে রীতিমতো আনন্দের জোয়ার বইছে। তৃণমূলের একজন পরিশ্রমী নেতা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জায়গা পাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক কর্মীরা এটিকে গাইবান্ধার রাজনীতির জন্য একটি বিশাল ও ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন।

সাইদুর রহমান রয়েলের এই রাজনৈতিক সাফল্য বা অবস্থান একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও পরিশ্রম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতির মাঠে নামেন। ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে অত্যন্ত ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলির কারণে তিনি খুব দ্রুত সবার নজর কাড়েন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, কার্যকরী সদস্য এবং সহ-যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।

তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন হিসেবেই তিনি আজ যুবদলের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ভোটারের প্রায় ৩০% থেকে ৩৫% হলো তরুণ ও যুবসমাজ। এই বিশাল যুবশক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং সুসংগঠিত করা যুবদলের অন্যতম প্রধান কাজ। বিগত বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন আর্থিক খাত থেকে হাজার হাজার মিলিয়ন ডলার ($) লুটপাট ও বিদেশে পাচার হয়েছে। দেশের এই ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে হলে সাইদুর রহমানের মতো ত্যাগী, শিক্ষিত ও সাহসী যুবনেতাদের এখন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। স্থানীয় নেতারা দৃঢ়ভাবে আশা করছেন, তার এই নতুন পদপ্রাপ্তি সাঘাটা ও গাইবান্ধায় দলের কার্যক্রমকে অন্তত ১০০% বেশি গতিশীল করবে।

নতুন এই বিশাল দায়িত্ব পাওয়ার পর সাইদুর রহমান রয়েল দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার ওপর আস্থা রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করায় আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে আন্তরিকভাবে চিরকৃতজ্ঞ।” তিনি মনে করেন, এই পদ তার জন্য যেমন অনেক বড় গৌরবের, ঠিক তেমনি এটি একটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বও বটে।

আগামী দিনে নিজের কাজের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে সাইদুর রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের যে চমৎকার রূপরেখা দিয়েছেন, তা মাঠে বাস্তবায়ন করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করবেন। এর জন্য সারা দেশের যুবসমাজকে এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম দেবেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ জনমুখী, শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল যুবদল গঠন করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। অর্পিত দায়িত্ব যাতে তিনি শতভাগ সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন, সেজন্য তিনি সবার কাছে আন্তরিক দোয়া, সহযোগিতা ও সুপরামর্শ কামনা করেছেন।

নতুন এই নেতার সফলতার জন্য সাঘাটার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাইদুর রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, গাইবান্ধা জেলা ও সাঘাটাবাসীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সমর্থনই তার সামনের দিকে এগিয়ে চলার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আজীবন সাধারণ জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে দেশ ও দলের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান। এলাকার মানুষও গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে রয়েল একদিন জাতীয় রাজনীতিতে আরও অনেক বড় অবদান রাখবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ