মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তারই একটি সফল অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার, ৬ জুন এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এই অভিযানে ১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই তরুণ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। পুলিশের এমন সফল অভিযান প্রমাণ করে যে, সমাজে অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আখতারুজ্জামান এই অভিযানের মূল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা পুরো অভিযানটির নেতৃত্ব দেন। গোপন এবং নির্ভরযোগ্য একটি খবরের ভিত্তিতে পুলিশের একটি চৌকস দল গঠন করা হয়। এই দলের মাঠ পর্যায়ের অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন শৈলকুপা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এই দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
গ্রেফতার হওয়া দুই মাদক কারবারির পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রথম আসামির নাম মো. মাছুম বিল্লাহ, যার বয়স ২৬ বছর। সে ঝিনাইদহ সদর থানার কাঞ্চননগর এলাকার মৃত বাবর আলী এবং মোছা. তহমিনা বেগমের ছেলে। দ্বিতীয় আসামির নাম মো. জিহাদ হোসেন, যার বয়স ২৫ বছর। সে শৈলকুপা থানার রতনপুর গ্রামের মো. মাসুদ রানার ছেলে। বয়সে তরুণ হওয়া সত্ত্বেও এরা দুজন মিলে বেশ কিছুদিন ধরে অত্যন্ত গোপনে ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। তাদের শরীর তল্লাশি করে পুলিশ ১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই মাদকের দাম খুব বেশি না হলেও, তরুণ প্রজন্মের জীবন ধ্বংস করতে এই ১৭ পিস ইয়াবাই যথেষ্ট।
আমাদের সমাজে বর্তমানে ইয়াবা একটি চরম ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব মতে, দেশে অবৈধ মাদকের পেছনে প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন ডলার ($) সমপরিমাণ অর্থ নষ্ট হয়। এই বিশাল অঙ্কের টাকা সরাসরি চোরাকারবারিদের পকেটে চলে যায়। মাদকাসক্ত তরুণরা শুধু নিজেদের জীবনই নষ্ট করছে না, বরং মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ভয়ংকর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশের কাছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, গ্রামে ঘটা ছোটখাটো অপরাধের প্রায় ৬০% থেকে ৭০% ঘটনার পেছনেই থাকে মাদকের প্রভাব। তাই এই ধরনের ছোট কারবারিদের ধরে মূল হোতাদের কাছে পৌঁছানো পুলিশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আসামিদের গ্রেফতার করার পরপরই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শৈলকুপা থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলা নম্বর ১১, যার তারিখ ৬ জুন ২০২৬। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা কোথা থেকে এই মাদক সংগ্রহ করত এবং কাদের কাছে বিক্রি করত, তা বের করতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর ফলে এলাকার অন্য মাদক কারবারিদের সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে গতকাল ৬ জুন শনিবারই বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। আদালত তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ূন কবির মোল্লা জানিয়েছেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করতে তাদের এই বিশেষ অভিযান ১০০% স্বচ্ছতার সাথে ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি এলাকার সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান, তারা যেন নিজেদের সন্তানদের দিকে কড়া নজর রাখেন। ছেলেমেয়েরা কার সাথে মিশছে, সেই বিষয়ে সচেতন হলে সমাজে মাদকাসক্তের হার অন্তত ৫০% কমিয়ে আনা সম্ভব।














