স্থায়ী ও বাসযোগ্য ভবিষ্যতের লক্ষ্যে কলকাতায় পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

স্থায়ী ও বাসযোগ্য ভবিষ্যতের লক্ষ্যে কলকাতায় পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস। শুক্রবার (৫ জুন) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জুড়ে বৃক্ষরোপণ, পদযাত্রা এবং সচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনায় কলকাতার নলবনে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শুধু এক দিনের জন্য নয়, সারা বছর ধরে বৃক্ষরোপণ চালিয়ে যাওয়া।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে নানা সংগঠন বৃক্ষরোপণ উৎসবের আয়োজন করে। কলেজ স্ট্রিটে বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে ‘রিলিফ অ্যান্ড পাবলিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-এর উদ্যোগে বিকেল ৩টায় একটি বিশেষ কর্মসূচি পালিত হয়। এই অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বিনামূল্যে চারা গাছ বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের হাতেও একটি করে চারা গাছ তুলে দেওয়া হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।

অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করেন। তারা একটি চমৎকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, যার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন পরিবেশ রক্ষায় তরুণ সমাজের সচেতনতার প্রতিফলন ঘটায়।

শুধু কলকাতা শহরেই নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিভিন্ন সংগঠন নিজ নিজ এলাকায় পরিবেশ দিবস পালন করেছে। ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ’, ‘পরিবেশ গোষ্ঠী’, ‘এবিভিপি সিইউ ইউনিট’, ‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি’ এবং ‘পরিবেশ রক্ষা কমিটি’-এর মতো সংগঠনগুলো তাদের এলাকায় বৃক্ষরোপণ, সেমিনার এবং পদযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে। প্রতিটি সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা এবং পরিবেশ রক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে আয়োজকরা জনগণকে পরিবেশ সম্পর্কে সজাগ করার চেষ্টা করেছেন। তারা পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বক্তারা বলেন, “গাছ আমাদের অমূল্য সম্পদ। গাছের মাধ্যমে মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করে, পরিবেশ বাঁচে এবং ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে। একটি গাছ একটি প্রাণীর সমান। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় বলেই আমরা বেঁচে আছি। তাই কেউ গাছ কাটবেন না। নিজ নিজ এলাকায় গাছ লাগান, অক্সিজেন বাঁচান, পরিবেশকে সুন্দর করে তুলুন।”

বক্তারা আরও সতর্ক করে বলেন যে, যদি নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা হয় এবং বনজঙ্গল নির্মূল করে ফেলা হয়, তবে আগামী দিনে মানবজাতির জন্য ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে। অক্সিজেনের অভাবে নানা ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি হবে এবং বিপুল প্রাণহানি ঘটবে। তাই তারা সবাইকে মিলেমিশে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। “গাছ লাগান, প্রাণ বাঁচান”এই স্লোগানের মাধ্যমে তারা সবাইকে পরিবেশ সুরক্ষার কাজে ব্রতী হওয়ার অনুরোধ করেন।

সামগ্রিকভাবে, এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবস পশ্চিমবঙ্গে একটি ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, পরিবেশ রক্ষায় সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ আজ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। তবে, শুধু এক দিনের উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বছর ধরে পরিবেশ রক্ষার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য, সুন্দর ও সুস্থ পৃথিবী রেখে যেতে পারব।

সম্পর্কিত নিবন্ধ