আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃমাহফুজুর রহমানের সততা ও কর্মপরিকল্পনায় শৈলকুপা একটি মডেল উপজেলা হতে যাচ্ছে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী, জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা হলো শৈলকুপা। উর্বর কৃষিজমি, নদী-নালা আর সহজ-সরল খেটে খাওয়া মানুষের এই জনপদটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা, দুর্নীতি আর প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। সাধারণ মানুষকে একটি ছোট কাজের জন্য দিনের পর দিন উপজেলা প্রশাসনের দরজায় ঘুরতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই হতাশার চিত্র একেবারেই বদলে গেছে। শৈলকুপার আকাশে এখন এক নতুন ভোরের আলো ফুটেছে। বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের বলিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকতা এবং শৈলকুপার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মাহফুজুর রহমানের সততা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কারণে এই উপজেলাটি আজ সারা দেশের মধ্যে একটি ‘মডেল উপজেলা’ হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের বলিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকতা

যেকোনো এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের সঠিক দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। শৈলকুপার এই পরিবর্তনের পেছনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলেন আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি সব সময় চেয়েছেন শৈলকুপার সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার যে সুযোগ তিনি করে দিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। অতীতে অনেক সময় দেখা যেত, প্রভাবশালী মহলের চাপে প্রশাসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারত না। কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ন্যায়বিচার ও সাধারণ মানুষের স্বার্থই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। তাঁর এই পক্ষপাতহীন ও শক্ত অবস্থানের কারণেই আজ শৈলকুপা উপজেলা প্রশাসন যেকোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে।

ইউএনও মোঃ মাহফুজুর রহমানের সততা ও একাগ্রতা

একটি উপজেলার মূল চালিকাশক্তি হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা ইউএনও। শৈলকুপার ইউএনও মোঃ মাহফুজুর রহমান যোগদানের পর থেকেই তার সততা, মেধা এবং একাগ্রতা দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় বসে থাকার বদলে সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি গিয়ে তাদের সমস্যা শোনার চেষ্টা করেন। যেকোনো অসহায় মানুষ এখন নির্দ্বিধায় তার অফিসে গিয়ে নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা বলতে পারেন। তাঁর সততা ও স্বচ্ছতার কারণে উপজেলা পরিষদে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করে যে, ইউএনও অফিসে গেলে কোনো হয়রানি ছাড়া, বিনা ঘুষে ন্যায়বিচার ও সঠিক সেবা পাওয়া সম্ভব।

প্রশাসনিক সেবায় দালালমুক্ত পরিবেশ ও স্বচ্ছতা

একসময় উপজেলা পর্যায়ের অফিসগুলোতে দালালদের চরম দৌরাত্ম্য ছিল। জন্মনিবন্ধন, জমির পর্চা বা যেকোনো সরকারি সনদের জন্য সাধারণ মানুষকে দালালদের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতো। কিন্তু ইউএনও মোঃ মাহফুজুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর উপজেলা পরিষদকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি ডিজিটাল সেবার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে মানুষ ঘরে বসেই কিংবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে পারেন। ভূমি অফিস থেকে শুরু করে প্রতিটি দপ্তরে এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন

একটি মডেল উপজেলা গড়তে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সবার আগে প্রয়োজন। ইউএনও মোঃ মাহফুজুর রহমান এই দুটি খাতের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং বিদ্যালয়গুলোতে একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে তিনি নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ রোগীরা যেন সঠিক ওষুধ ও চিকিৎসা পান, সে বিষয়ে তিনি সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে এসেছে।

কৃষি, অবকাঠামো ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন

শৈলকুপা মূলত একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, সঠিক সময়ে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন এখন দারুণভাবে সক্রিয়। প্রকৃত কৃষকরা যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন তাদের হক মেরে খেতে না পারে, সে জন্য ইউএনও নিজেই মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন। এছাড়া গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে যাতে ঠিকাদাররা কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য কাজের মান কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার এই পরিকল্পনা শৈলকুপাকে মডেল উপজেলা হতে দারুণভাবে সাহায্য করছে।

সামাজিক সংঘাত নিরসন ও শান্তির সুবাতাস

শৈলকুপার একটি দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা ছিল গ্রাম্য দলাদলি, আধিপত্য বিস্তার ও রক্তক্ষয়ী সামাজিক সংঘাত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের পর গ্রাম সংঘর্ষে লিপ্ত হতো। কিন্তু আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের জিরো টলারেন্স নীতি এবং ইউএনও মোঃ মাহফুজুর রহমানের কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারণে এই দলাদলির সংস্কৃতি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। অপরাধী যে দলের বা গোষ্ঠীরই হোক না কেন, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক সভা করে মানুষকে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের অশান্তি দূর হয়ে শৈলকুপায় এখন শান্তির সুবাতাস বইছে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, একটি আদর্শ ও উন্নত সমাজ গঠনে সৎ নেতৃত্ব এবং দক্ষ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই। আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের সৎ ও বলিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকতা শৈলকুপার প্রশাসনের জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করছে। আর সেই ঢালকে কাজে লাগিয়ে ইউএনও মোঃ মাহফুজুর রহমান তার সততা, মেধা ও আধুনিক কর্মপরিকল্পনা দিয়ে শৈলকুপাকে একটি স্বপ্নের জনপদে রূপান্তর করছেন। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হতাশা দূর করে আজ তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। উন্নয়ন ও সুশাসনের এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে কোনো সন্দেহ নেই যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শৈলকুপা পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি অনুকরণীয় ও অনন্য ‘মডেল উপজেলা’ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এমন একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য শৈলকুপা গড়ার কারিগরদের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসা এভাবেই চিরকাল অটুট থাকুক।


সম্পর্কিত নিবন্ধ