ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সাংবাদিক রাকিব হোসাইনের মৃত্যু

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কর্মরত তরুণ সাংবাদিক মো. রাকিব হোসাইন আজ রোববার (৩১ মে) ভোরে মারা গেছেন[1]। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ২৮ বছর। তিনি দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আজ সকালে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাকিবের গ্রামের বাড়ি গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে। তার বাবার নাম মো. মোক্তার হোসেন মেলকার। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবার ছাড়া বড় হয়েছেন এবং দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে দশমিনায় তার নানাবাড়িতে বসবাস করছিলেন। তার মামা শওকত হোসেন একসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সাংবাদিকতার জীবনে তিনি প্রথমে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় কাজ করেন এবং পরে দৈনিক যায়যায়দিনে যোগ দেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি দশমিনা বাজারের একটি ফার্মেসিতেও অংশীদার ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব দশমিনা উপজেলা সদরের মানিক মিয়া চত্বর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। রোববার ভোর চারটার দিকে রাকিব তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। এই স্ট্যাটাস দেখে তার পরিচিতজন ও স্বজনরা দ্রুত তার ভাড়া বাসায় ছুটে যান। সেখানে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু বরিশালে নেওয়ার পথেই সকাল পাঁচটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক স্বজন জানিয়েছেন, ঘরে রাখা খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বিষাক্ত ওষুধ বা গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের পর রাকিব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যার কথা নিশ্চিত করেনি। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “রাকিব তার ফেসবুক পোস্টে মৃত্যুর জন্য কাউকে সরাসরি দায়ী করেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের আবেদন করা হলে, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের হস্তক্ষেপে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে”।

মৃত্যুর আগে দেওয়া শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে রাকিব তার জীবনের হতাশা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “আসসালামু আলাইকুম। একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে? যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত”। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো তাকে বুঝতে পারেনি এবং ছোটবেলা থেকে তিনি পরিবারের কাছ থেকে কেবল অবহেলাই পেয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি তার মৃত্যুর পর মায়ের কবরের পাশে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায়ও তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, “দুনিয়ার মায়া মানুষ কখন ছাড়ে, কেউ কি বলতে পারেন?”।

আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে দশমিনা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে রাকিবের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ গলাচিপার চরবিশ্বাসে নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আসরের নামাজের পর সেখানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। তিনি বাবা, এক ভাই ও দুই বোন রেখে গেছেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে দশমিনা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ