বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে ১৩০ পদে চাকরির বিশাল সুযোগ, আবেদন শেষ আজই

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

দেশে সরকারি চাকরির খোঁজ করা তরুণদের জন্য একটি দারুণ খবর নিয়ে এসেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। তারা নবম থেকে বিশতম গ্রেডের ৭টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৩০ জন কর্মী নিয়োগের একটি বড় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আপনি যদি বিজ্ঞান, প্রকৌশল বা চিকিৎসা পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান এবং দেশের গবেষণামূলক কাজে অবদান রাখতে চান, তবে এই সুযোগটি আপনার জন্যই। তবে সময় একেবারেই নেই। আজ ২৭ মে ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টায় এই চাকরির আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তাই আগ্রহীদের খুব দ্রুত অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এমন একটি স্থায়ী পেশা তরুণদের জীবনকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম ক্যাটাগরিতে সায়েন্টিফিক অফিসার পদে ৩০ জন মেধাবী তরুণ নিয়োগ পাবেন। এই পদের জন্য প্রার্থীদের এসএসসি থেকে শুরু করে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে অন্তত তিনটি প্রথম শ্রেণি বা বিভাগসহ এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের এমএসসিতে থিসিস থাকা একদম বাধ্যতামূলক। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ইঞ্জিনিয়ার পদে ১৭ জনকে নিয়োগ দেবে কমিশন। এখানেও প্রার্থীদের এসএসসি থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যন্ত সব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি বা বিভাগ থাকতে হবে। কোনো প্রার্থী শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় শ্রেণি পেলে তিনি আবেদন করার যোগ্যতা হারাবেন। এই দুটি পদেই নির্বাচিত প্রার্থীরা নবম গ্রেডে ২২,০০০ টাকা থেকে ৫৩,০৬০ টাকা স্কেলে বেতন পাবেন। বর্তমান বৈশ্বিক বাজারের হিসেবে মূল বেতনের সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৪৫০$ (ডলার) এর সমান। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ সরকারি অন্যান্য আকর্ষণীয় সুবিধা যুক্ত করলে মাস শেষে বেতনের অংকটি বেশ ভালোই দাঁড়াবে।

চিকিৎসকদের জন্যও এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে দারুণ কাজের সুযোগ রয়েছে। মেডিকেল অফিসার পদে ২৬ জন চিকিৎসক নিয়োগ পাবেন। প্রার্থীদের এসএসসি অথবা এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ থাকতে হবে। এর পাশাপাশি এমবিবিএস ডিগ্রিতে কমপক্ষে ৬০% (শতাংশ) নম্বর পাওয়া চিকিৎসকেরাই কেবল এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই পদটির বেতন স্কেলও নবম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ১৬তম গ্রেডের ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট পদে ৯ জন কর্মী নেবে প্রতিষ্ঠানটি। এই পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পরীক্ষায় অন্তত দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএ নিয়ে পাস করতে হবে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং এবং ডেটা এন্ট্রির কাজ খুব ভালোভাবে জানতে হবে। টাইপিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রতি মিনিটে কমপক্ষে ২০ শব্দের গতি থাকা একজন প্রার্থীর জন্য একদম বাধ্যতামূলক। এই পদের কর্মীরা ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকার মধ্যে বেতন পাবেন।

কারিগরি ও সাধারণ পদে আরও ৪৮ জনকে নিয়োগ দেবে পরমাণু শক্তি কমিশন। এর মধ্যে কম্পিউটার টাইপিস্ট পদে সর্বোচ্চ ৩২ জন নিয়োগ পাবেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করা প্রার্থীরা অথবা সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম ৬ মাসের ট্রেড কোর্স করা ব্যক্তিরা এই পদের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর দাপ্তরিক কাজে টাইপিস্টদের গুরুত্ব অনেক বেশি। কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেতন স্কেল ১৯তম গ্রেডে নির্ধারণ করেছে, অর্থাৎ তাঁরা ৮,৫০০ টাকা থেকে ২০,৫৭০ টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। এ ছাড়া অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থীদের মধ্য থেকে জেনারেল অ্যাটেনডেন্ট-২ পদে ৮ জন এবং স্যানিটারি অ্যাটেনডেন্ট-২ পদে ৮ জনকে প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগ দেবে। এই দুই পদের কর্মীরা ২০তম গ্রেডে ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০,০১০ টাকা স্কেলে বেতন পাবেন। স্বল্পশিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের এটি একটি চমৎকার সুযোগ।

চাকরিপ্রত্যাশীদের বয়সের দিকেও বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ নজর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, ৭ মে ২০২৬ তারিখের হিসাবে সাধারণ প্রার্থীদের বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে চার ও পাঁচ নম্বর পদের ক্ষেত্রে যারা ইতিমধ্যে এই বিভাগে চাকরি করছেন, কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য বয়সসীমা ৪০ বছর পর্যন্ত শিথিল করেছে। সরকারি চাকরির ১০০% (শতাংশ) নিশ্চয়তা, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কারণে এই বয়সের প্রার্থীরা এই নিয়োগে প্রবল আগ্রহ দেখান। সাধারণত সাধারণ চাকরির ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৩০ বছর হলেও এখানে ৩২ বছর পর্যন্ত সুযোগ থাকায় অনেক বেশি মানুষ আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন।

আগ্রহী প্রার্থীদের সরাসরি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের (https://baec.teletalk.com.bd) মাধ্যমে অনলাইনে নিজেদের আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন সাবমিট করার পর প্রার্থীরা একটি ইউজার আইডি পাবেন। সেই আইডি ব্যবহার করে প্রার্থীরা টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বর থেকে এসএমএসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি জমা দেবেন। কর্তৃপক্ষ পদের গ্রেড অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ফি নির্ধারণ করেছে। এক থেকে তিন নম্বর পদের জন্য প্রার্থীরা আবেদন ফি ২০০ টাকা এবং টেলিটকের সার্ভিস চার্জ ২৩ টাকাসহ মোট ২২৩ টাকা পরিশোধ করবেন। চার নম্বর পদের জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা ও সার্ভিস চার্জ ১২ টাকাসহ মোট ১১২ টাকা কাটবে টেলিটক। আর পাঁচ থেকে সাত নম্বর পদের প্রার্থীরা আবেদন ফি ৫০ টাকা ও সার্ভিস চার্জ ৬ টাকাসহ মাত্র ৫৬ টাকা জমা দেবেন।

যেহেতু আবেদনের শেষ তারিখ আজ ২৭ মে ২০২৬ এবং সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত, তাই শেষ মুহূর্তের সার্ভার জটিলতা এড়াতে এখনই কম্পিউটারের সামনে বসে আবেদন করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সরকারি চাকরির এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এমন একটি প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা কোনো তরুণের জন্যই ঠিক হবে না। প্রার্থীরা নিজেদের সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, সদ্য তোলা রঙিন ছবি ও নির্দিষ্ট মাপের স্বাক্ষর স্ক্যান করে দ্রুত ওয়েবসাইটে আপলোড করে দিন। মনে রাখবেন, শুধু অনলাইনে ফরম পূরণ করলেই কাজ শেষ নয়। সঠিক নিয়মে টেলিটকের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করার মাধ্যমেই কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ