চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে ৬ মাসের আলটিমেটাম, সরকারের কঠোর সমালোচনা করলেন তাহের

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সমাজ ধ্বংসকারী এসব অপরাধীদের কোনো স্থান হবে না। মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে তিনি ঠিক ছয় মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন। আজ রোববার, ৩১ মে দুপুরে চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে উপজেলা জামায়াত আয়োজিত এক ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সমাজের সাধারণ মানুষদের সাহস জুগিয়ে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আমাদের সমাজে খারাপ মানুষের চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যা ১০০ ভাগ বেশি। তাই গুটিকয়েক অপরাধীর কাছে পুরো সমাজ জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ চিরতরে নির্মূল করতে ভালো মানুষদের ভয় না পেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি নিজেই সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন। যারা সমাজের পরিবেশ নষ্ট করছে এবং তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের কোনোভাবেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপির দাবির কড়া জবাব দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রচার করছেন এলাকার সব উন্নয়ন নাকি শুধু তাদের হাত ধরেই হবে। এমন দাবির জবাবে তাহের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি চৌদ্দগ্রামের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ এনেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রার হিসাবে প্রায় ১ কোটি ডলারের ($১,০০,০০,০০০) সমান। এরপর জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তিনি এলাকার উন্নয়নের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকার নতুন বরাদ্দ নিয়ে এসেছেন। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চৌদ্দগ্রামের চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও খোলামেলা জবাব দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিন দিন চরম অবনতি ঘটছে। শিশুহত্যা ও ধর্ষণের মতো ভয়ংকর ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, অপরাধের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজনের নাম আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অনেক সময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাইলেও রাজনৈতিক চাপের কারণে পারেন না।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও খোলামেলা সমালোচনা করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ একটি বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিল। মানুষ চেয়েছিল নতুন করে সংবিধানের সংস্কার হবে, পার্লামেন্টারি সিস্টেমের আরও উন্নয়ন ঘটবে এবং একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিগত কয়েক মাসে বিএনপির কাজের মধ্যে সেই ধরনের কোনো রূপরেখা বা কার্যকর পদক্ষেপ সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছে না। সরকারের এই ধীরগতি ও পরিকল্পনাহীনতা সাধারণ মানুষের মনে ইতিমধ্যে চরম হতাশা তৈরি করতে শুরু করেছে।

তবে বর্তমান সরকারকে এখনই ব্যর্থ বলতে নারাজ এই প্রবীণ রাজনীতিক। তিনি বলেন, আমরা বিএনপি সরকারকে এখনই একটি ব্যর্থ সরকার হিসেবে আখ্যা দিতে চাই না, কারণ তারা সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কাজের এই ধীরগতি ও একই প্রক্রিয়া যদি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন মানুষের ক্ষোভ সামলানো সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। তাই তিনি সরকারপ্রধানকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের মূল সমস্যাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জোর আহ্বান জানান।

চৌদ্দগ্রামের সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিপুল উপস্থিতিতে এই ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি এক বিশাল জনসভায় রূপ নেয়। উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের আরও অনেক শীর্ষ নেতা বক্তব্য রাখেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মুহাম্মদ শাহজাহান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান। উপস্থিত সাধারণ মানুষ নেতাদের প্রতিটি কথায় বিপুল সমর্থন জানান এবং এলাকার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার শপথ নেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ