আদ্-দ্বীন হাসপাতালে বেকারির সন্ধান পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৬ নবজাতক মৃত্যুর রহস্য তদন্তে নতুন মোড়

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে অবাক করা এক বেকারির সন্ধান পেয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। গত বুধবার এই হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ১ থেকে ৩ দিন বয়সী ৬ জন নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর আজ শনিবার বিকেলে তিনি সরাসরি হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালের ভেতরে থাকা রুটির কারখানা এবং সেখানে জমে থাকা নোংরা পানি থেকে এমন কোনো ক্ষতিকর পদার্থ বা গ্যাস বের হচ্ছে কি না, যা নবজাতকদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তা বিশেষজ্ঞরা গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ প্রথমে হাসপাতালের ৫ তলায় থাকা নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) যান এবং সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি সোজা চলে যান কলেজ ভবনের ৮ তলায় থাকা সেই বেকারিতে। মন্ত্রী জানান, মেডিকেল কলেজ ভবনের ঠিক ৮ থেকে ১০ গজ দূরে একটি সেতু দিয়ে যুক্ত ভবনে ওই বেকারিটি চলছে। তিনি নিজে সেখানে দুটি ইলেকট্রিক ওভেন এবং প্রচুর ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখেছেন। পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো দক্ষ বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী ছিলেন না, মন্ত্রী কেবল একজন মেকানিক্যাল সহকারীকে সেখানে পান। প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার রোগী ও স্বজনরা আসেন, সেখানে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকাটা চরম হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

তবে বেকারি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন কড়া বক্তব্যের পর হাসপাতালের পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান নিজেদের পক্ষে সাফাই গান। তিনি দাবি করেন, বেকারিটি ২ তলায় থাকা পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে অনেক উঁচুতে ৮ তলায় অবস্থিত। সেখানে শুধু ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করা হয়, কোনো গ্যাস নেই। বেকারিতে কিছুটা পানি জমে থাকার কথা তিনি স্বীকার করলেও দাবি করেন, ওই নোংরা পানি রুটি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় না। সবকিছু মেশিনে তৈরি হয়।

৬ জন ফুটফুটে নবজাতক একসাথে মারা যাওয়ার আসল কারণ বের করতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আজ শনিবার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩ জুন করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “সকালে তদন্ত কমিটির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হলে মারা যাওয়া নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়া ১০০% জরুরি। অনেক মা এখন দূরে নিজেদের বাড়িতে আছেন। সবার সঙ্গে কথা বলতে কমিটির আরও অন্তত ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগবে।”

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

ময়নাতদন্ত ছাড়া কীভাবে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সদ্য সন্তান হারানো বাবা-মায়ের মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ। সিআইডি এবং পুলিশ অনেক চেষ্টা করেও ময়নাতদন্তের জন্য তাদের রাজি করাতে পারেনি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবেশগত একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন তারা দিতে পারবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তদন্ত কমিটিতে এখন একজন প্রকৌশলী ও একজন নবজাতক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও যুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে, সন্তান হারানো এক হতভাগ্য বাবা হাবিবুর রহমান গত বুধবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার অভিযোগ এনে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার সূত্র ধরে পুলিশ হাসপাতালের বিভিন্ন পদের কয়েকজন কর্মীকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ছেড়ে যাওয়ার পরপরই সেখানে সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। মন্ত্রী বের হওয়ার সাথে সাথে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে তাদের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের বাধা দেন এবং চরম বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন ফোনে সাংবাদিকদের জানান যে, মন্ত্রী বেকারিটি সিলগালা করে দিয়েছেন, তাই এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব নয়।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

এরপরও সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য নিচতলায় অপেক্ষা করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা এসে উপস্থিত হন। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সামনেই হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। তারা রীতিমতো ধাওয়া দিয়ে সাংবাদিকদের হাসপাতাল চত্বর থেকে বের করে দেন এবং বেধড়ক মারধর করেন। এই অতর্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ