ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় রাতের আঁধারে এক ইজিবাইক চালকের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁর উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম গাড়িটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে পৌরসভার মঠবাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত চালক ইসমাইল হোসেন, যিনি উপজেলার ইটালি গ্রামের একজন দরিদ্র বাসিন্দা, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় যাত্রী বহন শেষে নিজের ইজিবাইক নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি যখন পৌরসভার মঠবাড়ি এলাকায় পৌঁছান, তখন চার থেকে পাঁচজনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে।
হামলাকারীদের আকস্মিক ও নির্দয় মারধরে ইসমাইল গুরুতর আহত হন। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি ইজিবাইকটি রাস্তার ওপর ফেলেই দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ইজিবাইকটি নিয়ে অন্ধকারে গা ঢাকা দেয়।
ঘটনার পর ইসমাইলের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। তারা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, ইসমাইলের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পৌরসভার মঠবাড়ি এলাকাটি সাধারণত রাতে কিছুটা নিরিবিলি থাকে। এই নির্জনতার সুযোগ নিয়েই অপরাধীরা এমন দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শৈলকুপা ও এর আশপাশের এলাকায় এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ইজিবাইক চালকদের মধ্যে এখন এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ভাড়ায় গাড়ি চালাতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন।
দরিদ্র ইজিবাইক চালকদের জন্য তাদের গাড়িটি কেবল একটি বাহন নয়, এটি তাদের পুরো পরিবারের অন্ন জোগানোর প্রধান হাতিয়ার। অনেক চালকই ব্যাংক বা এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক কেনেন। একটি ইজিবাইকের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো। গাড়িটি হারিয়ে গেলে ঋণ পরিশোধ করা এবং পরিবারের খরচ চালানো তাদের জন্য এক অসম্ভব লড়াই হয়ে দাঁড়ায়।
ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় চরম হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। তারা দ্রুত ছিনতাই হওয়া গাড়িটি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং পুলিশের টহল কমে যাওয়ায় অপরাধীরা এমন অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। তারা রাতের বেলা পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, “আমরা খবর পেয়েছি এবং ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একটি দল কাজ করছে। আহত চালকের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং ইজিবাইকটি উদ্ধারের সব ধরনের চেষ্টা চালাব।”
সাধারণ মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন খুব দ্রুত এই ছিনতাই চক্রকে ধরে আইনের আওতায় আনবে এবং ইজিবাইক চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।














