ঝিনাইদহে দুস্থদের মুখে হাসি: প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আলী আজম

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সামনেই মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের এই আনন্দের দিনে সমাজের অসহায়, হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে এগিয়ে এসেছেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোঃ আবু বকর। গতকাল মঙ্গলবার, ২৬ মে বিকেলে তিনি হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া নগদ অর্থ তুলে দেন। ঈদের ঠিক আগে এমন নগদ আর্থিক সহায়তা হাতে পেয়ে এলাকার খেটে খাওয়া ও দিনমজুর মানুষেরা বেশ আনন্দিত। তারা হাসিমুখে এই সাহায্য গ্রহণ করেন।

সরকারি এই বরাদ্দের একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তিনি জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে দুস্থদের মাঝে বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে মোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী যার পরিমাণ প্রায় ৮,৫০০$ (ডলার)। তিনি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই টাকা দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছেন। মোট বরাদ্দের ৪০% অর্থাৎ ৪ লাখ টাকা হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার গরিব মানুষদের জন্য রাখা হয়েছে। বাকি ৬০% বা ৬ লাখ টাকা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুস্থ মানুষের মাঝে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বিতরণ করবেন। তালিকাভুক্ত প্রতিটি অসহায় পরিবারকে নগদ ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে তারা অন্তত ঈদের দিনে পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের জন্য কিছু ভালো খাবার বা নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

মঙ্গলবারের এই সুন্দর ও সুশৃঙ্খল অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা জামায়াতের আমীর বাবুল হোসেন। পুরো অনুষ্ঠানটি চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ ইদ্রিস আলী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নিজ হাতে মানুষের কাছে ত্রাণের টাকা পৌঁছে দেন সংসদ সদস্য আলী আজম মোঃ আবু বকর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা তাজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহার হুসাইন এবং পৌর আমীর শফি উদ্দীন। পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের আমীর ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত থেকে এই মহতী কাজে সরাসরি সহযোগিতা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আলী আজম অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, আগের সরকারগুলো দেশে অনেক বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজ করলেও গরিব মানুষের জন্য যে অর্থ বা সাহায্য আসত, তা কখনোই সঠিক মানুষের হাতে পৌঁছাত না। মাঝখান থেকে অসাধু নেতা ও দুর্নীতিবাজরা সেই টাকা লুটপাট করে নিজেদের পকেট ভারী করত। কিন্তু এখন আর সেই পুরোনো দিন নেই। তিনি সাধারণ মানুষকে কথা দেন, জনগণের প্রতিটি হক তারা একদম তাদের ঘরের দরজায় পৌঁছে দেবেন। একজন সৎ জনপ্রতিনিধি হিসেবে এটাই তাদের জীবনের প্রধান অঙ্গীকার।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

তিনি তার বক্তব্যে আরও পরিষ্কার করে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতা যেখানেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন, তারা সবাই একটি বিষয়ে কঠিনভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো খাত থেকে গরিব মানুষের জন্য যে অর্থই আসুক না কেন, তার ১০০% সরাসরি জনগণের হাতেই তারা তুলে দেবেন। এখানে কোনো ধরনের দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সুযোগ কেউ পাবে না। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জিনিসপত্রের দাম বাড়ার বিষয়টিও তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই সহায়তার পরিমাণ আগামীতে আরও কয়েক গুণ বাড়ানোর জন্য বিশেষ আহ্বান জানাবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন।

সামনেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষকে এখন থেকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেন, সমাজে যদি সত্যিকারের ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে আগামী নির্বাচনে অবশ্যই সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। জনপ্রতিনিধি যদি দুর্নীতিমুক্ত ও আল্লাহভীরু হন, তবেই কেবল সাধারণ জনগণ তাদের সঠিক পাওনা বা হক বুঝে পাবে। খারাপ বা অযোগ্য লোক ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কখনোই কমবে না। তাই তিনি সবাইকে চোখ-কান খোলা রেখে সঠিক ও ভালো নেতা নির্বাচনের জন্য আন্তরিক অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠান শেষে সাহায্য পাওয়া অসহায় মানুষেরা সংসদ সদস্য ও অন্যান্য উপস্থিত নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর্তমান সময়ে যখন বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেশ চড়া, তখন ঈদের আগে এই ২ হাজার টাকা তাদের কাছে অনেক বড় একটি স্বস্তি নিয়ে এসেছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ গভীরভাবে আশা করছেন, বর্তমান সরকারের এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আগামী দিনেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে। গরিবের হক যেন আর কেউ মেরে খেতে না পারে, সেই বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সব সময় এমন কড়া নজরদারি রাখবেন বলেই ঝিনাইদহবাসী প্রত্যাশা করেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ