পদ্মা সেতু দিয়ে স্বস্তির ঈদযাত্রা: ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঈদের ছুটির দ্বিতীয় দিনেও পদ্মা সেতু দিয়ে লাখো মানুষ স্বস্তিতে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ঘরে ফেরার অন্যতম প্রধান এই পথে এবার কোনো দুর্ভোগ বা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে যানবাহনের কিছুটা চাপ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থায় যানজটমুক্ত রয়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে।

মাওয়া টোল প্লাজা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসের তুলনায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের মতো ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবুও কোথাও কোনো দীর্ঘ যানজট নেই। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই প্রান্ত থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। অন্যদিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা।

সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পার হয়েছে। এই সময়ে মোট টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মাওয়া টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ৪৫ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল দিয়ে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি পৃথক লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইটিসি (ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন) ব্যবস্থায় টোল আদায় করায় টোল প্লাজায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

যানজট নিরসনে পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে একটি বিশেষ ‘বাস বে’ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি বাস দাঁড়ানোর সুযোগ থাকায় টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের কোনো বিশৃঙ্খলা বা দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না। এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেতু কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত তৎপরতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে এবারের ঈদযাত্রা দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ