বাজারে অপরিপক্ব আমের বিক্রি ঠেকাতে এবং ভোক্তাদের ১০০% নিরাপদ আম দিতে রাজশাহী, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল রোববার তারা পৃথকভাবে আম সংগ্রহের সময়সূচি বা ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে চাষিরা জানতে পারবেন ঠিক কবে কোন জাতের আম গাছ থেকে পাড়া যাবে। মূলত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতেই প্রশাসন এই দরকারি উদ্যোগ নিয়েছে।
আমের রাজধানী রাজশাহীতে ১৫ মে থেকে আম পাড়া শুরু হবে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, ১৫ মে চাষিরা সব ধরনের গুটি আম নামাতে পারবেন। এরপর ২২ মে গোপালভোগ, ২৫ মে রানিপসন্দ ও লক্ষ্মণভোগ, ৩০ মে বিখ্যাত হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি এবং ১০ জুন ল্যাংড়া আম বাজারে আসবে। ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি আম নামাতে পারবেন চাষিরা। তবে কাটিমন জাতের আম সারা বছরই বাজারে পাওয়া যাবে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে ২২ মে থেকে গুটি আম পাড়ার মাধ্যমে মৌসুম শুরু হবে। নওগাঁর জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বিশেষ ‘নাক ফজলি’ আম বাজারে আসবে ৫ জুন। চলতি বছর নওগাঁয় প্রচুর আমের ফলন হয়েছে। জেলা প্রশাসন আশা করছে, এ বছর সেখানে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বা ২৫০ মিলিয়ন $ (ডলার) মূল্যের আম বাণিজ্য হবে। গত বছর তারা ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করেছিল। এবার ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত ২০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে কৃষি বিভাগ।
চুয়াডাঙ্গায় আম পাড়া শুরু হবে ১৩ মে থেকে। ওই দিন চাষিরা গুটি, ক্ষীরশাপাতি, গোপালভোগ ও বোম্বাই আম গাছ থেকে নামাতে পারবেন। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার জানান, ২২ মে হিমসাগর, ২৮ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি বাজারে আসবে। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার জেলায় ৩ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। এই জেলার আমের স্বাদ ও গন্ধের বেশ ভালো সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে।
এদিকে দেশের আরেক জেলা সাতক্ষীরায় ৫ মে থেকেই আম পাড়া শুরু হয়ে গেছে। চাষিরা ইতিমধ্যে গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস ও বোম্বাই আম বাজারে নিয়ে এসেছেন। আগামী ১৫ মে থেকে সাতক্ষীরার সুপরিচিত হিমসাগর আম বাজারে পাওয়া যাবে। সাতক্ষীরা থেকেও এবার ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে পাঠানোর জোর পরিকল্পনা রয়েছে। রপ্তানির মান ঠিক রাখতে প্রশাসন মাঠে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
দেশের সব জেলা প্রশাসনই আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ গাছ থেকে আম নামালে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। কোনোভাবেই অপরিপক্ব আমে রাসায়নিক মিশিয়ে পাকানো যাবে না। বাজারে আমের গুণগত মান ১০০% ঠিক রাখতে মাঠে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকি দল কাজ করবে। এর ফলে ক্রেতারা এবার নিশ্চিন্তে রসালো ও সুমিষ্ট আম খেতে পারবেন।














