শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ: আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক আটজনের দেহে ডোপ টেস্ট করিয়ে মাদক সেবনের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের আটক করে। আটকের পরপরই চিকিৎসকদের মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করালে আটজনের শরীরেই শতভাগ (১০০%) মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর পুলিশ তাঁদের দ্রুত আদালতে তোলে। বিজ্ঞ বিচারক সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণ পেয়ে সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে সরাসরি কারাগারে পাঠিয়েছেন।

শৈলকুপা থানা সূত্র জানায়, সমাজ থেকে মাদকের বিষাক্ত ছোবল পুরোপুরি নির্মূল করতে নিয়মিত এই বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযানের সময় বখাটে ও সন্দেহভাজনদের আটক করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট করান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পরীক্ষায় আটক ব্যক্তিদের রক্ত ও প্রস্রাবে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি পরিষ্কারভাবে ধরা পড়ে। বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট থাকায় আসামিরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ পাননি। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ প্রসিকিউশন প্রতিবেদন তৈরি করে আসামিদের বিচারিক আদালতে সোপর্দ করে।

বিজ্ঞ বিচারক আসামিদের বয়স ও অপরাধের ধরন পর্যালোচনা করে পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বিজুলিয়া গ্রামের মো. ইবাদত হোসেনের ছেলে মো. ইমরাত হোসেনকে (৪৬) বিচারক সর্বোচ্চ ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা না দিলে তাঁকে আরও অতিরিক্ত ১০ দিন জেল খাটতে হবে। অন্যদিকে রাজধানীর লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা এবং বর্তমানে গাড়াগঞ্জে বসবাসরত রজব দেওয়ানের ছেলে মো. ইয়াসিন দেওয়ানকে (২৩) আদালত ৯ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা বা প্রায় ২৫ ডলার ($২৫) অর্থদণ্ড দেন। অনাদায়ে তাঁকে আরও ১৫ দিন কারাভোগ করতে হবে।

একই পরিবারের সন্তান এবং ইয়াসিনের ভাই মো. আলামিনকে (২৫) আদালত ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর সাজা আরও ১৫ দিন বাড়বে। এছাড়া খন্দকবাড়ীয়া গ্রামের নজরুল বিশ্বাসের ছেলে মো. লিখন বিশ্বাসকে (৩৩) আদালত ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। এই অর্থ অনাদায়ে তাঁকে অতিরিক্ত ১০ দিন জেলে থাকতে হবে। একই সাথে বন্দেখালী গ্রামের ১৯ বছর বয়সী তরুণ শাহাজাহানকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে তাঁর সাজা আরও ১৫ দিন বাড়বে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় আরও আছেন শেখপাড়া এলাকার মইন উদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. রইচ উদ্দীন (৩৫)। আদালত তাঁকে ৭ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন, যা পরিশোধ না করলে আরও ৭ দিন বিনাশ্রম জেল খাটতে হবে। এছাড়া মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মীর নাজমুল আলম সুজন (৪৬) এবং মো. সজিব হোসেনকে (২৫) আদালত ৫ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা করেন বিচারক। এই জরিমানার টাকা দিতে না পারলে দুজনকেই অতিরিক্ত ১০ দিন করে কারাভোগ করতে হবে।

বিজ্ঞ আদালত আট আসামির কাছ থেকে সর্বমোট ৭,৯০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রায় প্রায় ৬৫ ডলারের ($৬৫) সমান। জরিমানার এই পুরো অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধীদের হাতেনাতে আইনের আওতায় আনতে ডোপ টেস্ট এখন পুলিশকে অনেক দূর এগিয়ে নিচ্ছে। অতীতে মাদকসেবীদের বিচার পেতে নানা জটিলতা তৈরি হলেও এখন ডোপ টেস্টের কারণে আদালত অতি দ্রুত রায় ঘোষণা করছেন। ফলে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, ঝিনাইদহ জেলাকে সম্পূর্ণ মাদক ও অপরাধমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের এই বিশেষ অভিযান পুরোদমে চলবে। তিনি তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদক বিক্রেতা কিংবা সেবনকারী কারও প্রতি পুলিশ কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাবে না। এলাকায় যেকোনো অপরাধমূলক তৎপরতার ৮০% থেকে ৯০% সত্যতা পেলেই পুলিশ সাথে সাথে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ