শৈলকুপা প্রেসক্লাব থেকে রাজিব মাহমুদ টিপু ও মিজানুর বহিষ্কার: শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর পদক্ষেপ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী শৈলকুপা প্রেসক্লাব থেকে দুই সদস্যকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কার্যনির্বাহী কমিটি। বহিষ্কৃত দুই বিতর্কিত সদস্য হলেন বড় মৌকুড়ি গ্রামের রাজিব মাহমুদ টিপু এবং লাঙ্গলবাধ এলাকার মিজানুর রহমান। ক্লাবের গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপ, গুরুতর নৈতিক স্খলন এবং সাংবাদিকদের সামাজিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিল প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ। ক্লাবের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ দ্রুত কার্যকর করা হয়। শৈলকুপা প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে বড় মৌকুড়ি গ্রামের রাজিব মাহমুদ টিপুর বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। সম্প্রতি বড় মৌকুড়ি গ্রামের সাধারণ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট ও লিখিত অভিযোগ প্রেসক্লাব নেতৃত্বের কাছে জমা দেন। সেখানে টিপুর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও নারীসংক্রান্ত স্পর্শকাতর ঘটনায় জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই শৈলকুপা প্রেসক্লাব বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে ৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিটি সরেজমিনে বড় মৌকুড়ি গ্রামে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে। তদন্ত চলাকালে গ্রামের প্রায় ৯০% মানুষ অভিযুক্ত টিপুর অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। তদন্ত কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন ক্লাবের সভাপতির কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনে রাজিব মাহমুদ টিপুর বিরুদ্ধে আনা নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের যাবতীয় অভিযোগের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। তদন্ত দল উল্লেখ করে, একজন সংবাদকর্মীর এমন কর্মকাণ্ড পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য লজ্জাজনক এবং ক্লাবের সুনামের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

অন্যদিকে লাঙ্গলবাধ এলাকার সদস্য মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও স্থানীয় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং অপসাংবাদিকতার একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল। ক্লাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় অপব্যবহার করে নিরীহ মানুষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছিলেন। এমনকি বিদেশে লোক পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এক প্রবাসী পরিবারের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে প্রায় $১,২০০ ডলার বা প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পায় তদন্ত দল। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রেসক্লাব থেকেও তাঁর অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শৈলকুপা প্রেসক্লাবের নিজস্ব মিলনায়তনে এক বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের সভাপতি শাহীন আক্তার পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিকের সঞ্চালনায় সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রায় ৬০% সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে সদস্যরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাংবাদিকতার মহান পেশাকে কলঙ্কমুক্ত রাখা এবং ক্লাবের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে উপস্থিত সব সদস্যই তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের পক্ষে জোরালো মত দেন। ফলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে রাজিব মাহমুদ টিপু ও মিজানুর রহমানের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল সুযোগ-সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ এক লিখিত যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকদের প্রধান কাজ হলো সমাজের নানা অন্যায় ও অনিয়ম সাহসের সাথে তুলে ধরা, নিজেরা কোনো অপকর্মে জড়িয়ে পড়া নয়। শৈলকুপা প্রেসক্লাব সবসময় সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পক্ষে অবিচল অবস্থান নেয়। কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অপরাধ বা নীতিহীন কাজে লিপ্ত হলে তার কোনো দায় সংগঠন বহন করবে না। প্রেসক্লাবে ১০০% স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে একইভাবে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে রাজিব মাহমুদ টিপু ও মিজানুর রহমানকে বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বড় মৌকুড়ি ও লাঙ্গলবাধ এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি দেখা যায়। স্থানীয় সচেতন নাগরিক এবং ঝিনাইদহের গণমাধ্যমকর্মীরা প্রেসক্লাবের এমন সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ সাংবাদিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের সম্মান ও ভালোবাসাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। শৈলকুপা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন থেকে বহিষ্কৃত ওই দুই ব্যক্তির কোনো ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড বা অপকর্মের দায়ভার ক্লাব বহন করবে না।

সম্পর্কিত নিবন্ধ