শৈলকূপায় পুলিশের দিন-রাত সাঁড়াশি অভিযান: মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীসহ গ্রেফতার ৭

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় অপরাধ ও মাদকের বিস্তার ঠেকাতে দিন ও রাতব্যাপী বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে থানা পুলিশ। চব্বিশ ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে ৫ জন চিহ্নিত মাদকসেবী, ১ জন অনলাইন জুয়াড়ি এবং গভীর রাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আরও ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক ৫ মাদকসেবীকে তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর দিনভর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মাদক গ্রহণের অপরাধে হাতেনাতে ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ তাদের আদালতে তুললে বিচারক সাজা ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আবাইপুর গ্রামের মোঃ সেলিম হোসেনকে (২৫) ৬ মাসের জেল ও ১,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের জেল দেওয়া হয়। এছাড়া হাবিবপুর গ্রামের মোঃ মৃদুল শেখকে (২০) ৫ মাস ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং মোঃ বাবু মন্ডলকে (২২) ৫ মাসের জেল ও ১,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

একই অভিযানে উত্তর পদমদী গ্রামের মোঃ সৈকতকে (২৮) ৭ মাসের জেল ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার সাবিনগর গ্রামের সুফল বিশ্বাসকে (২১) আদালত ৭ মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা জরিমানা করেন, যা অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিন জেল খাটতে হবে। জরিমানার এই টাকার ১০০% অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করতে রাতভর সক্রিয় ছিল পুলিশ দল। ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের কবিরপুর তিন রাস্তার মোড়ে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পাকা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে পথচারীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও শান্তি নষ্ট করার দায়ে উত্তর পদমদী গ্রামের মোঃ সাজ্জাদ আহম্মেদকে (২০) হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করে তাকে দ্রুত আদালতে পাঠানো হয়।

অন্য একটি অভিযানে সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। উপজেলার ১৫ নম্বর ফুলহরী ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে দুধসর রোডে অভিযান চালানো হয়। সেখানে স্থানীয় জাফর ইসলামের চায়ের দোকানের সামনে বসে মোবাইল ফোনে অনলাইনে বাজি ধরে জুয়া খেলছিলেন মোঃ ফুল মিয়া হোসেন (১৯) নামের এক যুবক। পুলিশ তাকে ডিভাইসসহ আটক করে। এরপর তার বিরুদ্ধে জুয়া আইনে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা পুরো অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, শৈলকূপা উপজেলাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে পুলিশ দিনরাত মাঠে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত করে এমন কোনো অপরাধীকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, অনলাইন জুয়া বর্তমান তরুণ সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধরণের অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করতে পুলিশের এমন আকস্মিক তল্লাশি ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চলবে।

এদিকে পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত ও দিনে নিয়মিত পুলিশি টহল থাকায় পাড়া-মহল্লায় মাদকসেবী ও বখাটেদের দৌরাত্ম্য প্রায় ৮০% কমে এসেছে। বিশেষ করে হাসপাতাল চত্বর এবং গ্রামীণ হাট-বাজারের পরিবেশ এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও শান্ত।

সম্পর্কিত নিবন্ধ