শৈলকুপায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে চার মাদকসেবী গ্রেপ্তার: আদালত থেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা পুলিশের দিন ও রাতের বিশেষ অভিযানে চারজন চিহ্নিত মাদকসেবীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় মাদক নির্মূল ও সার্বিক সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। শৈলকুপা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো উপজেলাকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত তাদের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। নতুন প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল, আবাইপুর এবং উলুবাড়ীয়া গ্রামে একযোগে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। দিনভর নজরদারির পর গভীর রাতে বিভিন্ন নির্জন বাগান ও সন্দেহভাজন আড্ডাস্থলে অতর্কিত হানা দেয় পুলিশের একাধিক টিম। অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় চারজনকে হাতেনাতে আটক করা সম্ভব হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক মাসে এসব প্রত্যন্ত এলাকায় মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক কলহের মতো ঘটনা নিত্যদিনের আতঙ্কে পরিণত হয়েছিল। পুলিশের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে সাধারণ গ্রামবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞ আদালত আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকায় পৃথক মেয়াদে সাজার আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কাচেরকোল গ্রামের মোঃ পান্না খাঁ-র ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম ওরফে রাব্বিকে (২২) সাত মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাকে ১০০০/- টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই অভিযানে আবাইপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোল্লার ছেলে মোঃ হাসিবুল হাসান জুয়েলকে (২৮) সাত মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি আদালত তাকে ২০০/- টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।

একই মামলার রায়ে আবাইপুর গ্রামের মন্টু মুন্সীর ছেলে রাজিবুল ইসলাম রাজিবকে (২২) বিজ্ঞ আদালত পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেই সাথে ২০০/- টাকা জরিমানা অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে উলুবাড়ীয়া গ্রামের মোঃ আঃ রশিদের ছেলে মোঃ টুটুল হোসেনকে (৩০) ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০০০/- টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশি কঠোর নিরাপত্তায় চারজন আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে থানা কর্তৃপক্ষ।

আইন-শৃঙ্খলার ওপর মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী এই জেলায় প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের নিষিদ্ধ মাদকের লেনদেন সংঘটিত হয়। সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা প্রতি মাসে এই জনপদে আনুমানিক $5,000 বা তার চেয়েও বেশি মূল্যের অবৈধ মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে যুবসমাজ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে, যার কারণে স্থানীয় প্রায় ৮০% সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছিলেন। তাই অপরাধের বিস্তার ঠেকাতে শৈলকুপা থানা পুলিশ মাদকের মূল সরবরাহকারীদের শনাক্ত করতে জোরদার তৎপরতা শুরু করেছে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে শতভাগ আপসহীন অবস্থানে রয়েছি। মাদক কারবারি কিংবা মাদকসেবী যেই হোক, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শৈলকুপাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের দিন-রাতের অভিযান সবসময় চলবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতার কারণেই অভিযানে প্রায় ৯০% সাফল্য আসছে। তিনি আরও অনুরোধ করেন, এলাকায় যেকোনো মাদক চক্রের সন্ধান পেলে সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। পুলিশ তথ্যদাতার নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এই মাদকবিরোধী পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু আইনের প্রয়োগ করলেই পুরো সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয়, বরং পারিবারিক অনুশাসন ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকরা একসঙ্গে কাজ করলে শৈলকুপাকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ