শৈলকুপায় মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান: গ্রেপ্তার ৭, ডোপ টেস্টে ৫ জনের কারাদণ্ড

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ মেলায় আদালত তাৎক্ষণিক বিচার বা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি এবং অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশের বিশেষ দল ১২ অক্টোবর শৈলকুপা হাজামপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ আজা শেখ (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ওই এলাকার মোঃ খলিল শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আজা শেখ দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ও অ্যাপসে ডিজিটাল জুয়া খেলছিলেন এবং অন্যদেরও এতে জড়াচ্ছিলেন। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দেশের বাইরে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার ($) ও বিপুল অর্থ পাচার হচ্ছিল। শৈলকুপা থানা পুলিশ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত জুয়া প্রতিরোধ দমন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।

একই দিন রাত আটটা পাঁচ মিনিটের দিকে শৈলকুপার কবিরপুর এলাকায় মাদকবিরোধী আরেকটি ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। কবিরপুর গ্রামের জনৈক মজিবুর রহমানের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোঃ মিলন (৩০) নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। মিলন পূর্ব মাদলা গ্রামের মৃত মুসলিম শেখের ছেলে। তল্লাশির সময় মিলনের কাছ থেকে ২৩ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন পুলিশ সদস্যরা। শৈলকুপা থানা পুলিশের ভাষ্য মতে, মিলন স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ১২ অক্টোবর শৈলকুপা থানার বিশেষ টিম উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকবিরোধী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজন ৫ জনকে আটক করে। আটকের পর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে তাদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করানো হলে ১০০% রিপোর্টই পজিটিভ আসে। অর্থাৎ প্রত্যেকের শরীরেই নিষিদ্ধ মাদকের স্পষ্ট উপস্থিতি মেলে। এরপরই পুলিশ আটককৃতদের কালবিলম্ব না করে আদালতে হাজির করে। বিজ্ঞ বিচারক সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সকল আসামিকে সশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ডের স্পষ্ট আদেশ জারি করেন।

আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির সাজার বিবরণ প্রকাশ করেছে থানা পুলিশ। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মীনগ্রামের জুয়েল বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আরাফাত বিশ্বাসকে (২১) ৯ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়, জরিমানা না দিলে তাকে আরও ৭ দিন জেল খাটতে হবে। রয়েড়া গ্রামের মোবারক শেখের ছেলে মোঃ সবুর আলীকে (৩৫) এবং মৃত জহুরুল ইসলাম মিয়ার ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলামকে (৫০) ১ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, অনাদায়ে অতিরিক্ত ১৫ দিন কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া বাদালশো গ্রামের বিপ্লব বিশ্বাসের ছেলে বিজন কুমার বিশ্বাস (২৭) এবং কবিরপুর গ্রামের তহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ তরিকুল ইসলাম রানাকে (৩৩) ৯ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ১৫ দিন কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পরপরই সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজনসহ গ্রেপ্তার হওয়া সকল আসামিকে কড়া পুলিশি পাহারায় ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, এলাকায় তরুণ প্রজন্মের প্রায় ৮০% নষ্ট হচ্ছে অনলাইন জুয়া এবং মরণনেশা মাদকের কবলে পড়ে। তাই পুলিশের এমন সরাসরি ও কঠোর অবস্থান সমাজের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখবে।

শৈলকুপা থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদক কারবারি, সেবনকারী এবং জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে শতভাগ জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন তারা। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শৈলকুপাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযান প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে নিজ নিজ এলাকার অপরাধীদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সার্বিক সহায়তা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ