শৈলকুপায় ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণ প্রমাণ, দুই দিনে ৯ জনের কারাদণ্ড

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় থানা পুলিশের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৯ জনের শরীরে ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ মিলেছে। বিজ্ঞ আদালত সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন। গত ৮ ও ৯ অক্টোবর টানা দুই দিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে। পরীক্ষায় তাদের প্রত্যেকের শরীরেই মাদক সেবনের ১০০% নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়ার পর সরাসরি আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশের বিশেষ এই মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয় গত ৮ অক্টোবর। শৈলকুপা থানা পুলিশের চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রথমে ৫ জনকে আটক করে। আটক যুবকদের অস্বাভাবিক আচরণ ও গতিবিধি দেখে পুলিশ তাদের মাদকাসক্ত বলে সন্দেহ করে। এরপর নিয়মানুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ডোপ টেস্ট করানো হলে চিকিৎসকরা মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। শৈলকুপা থানা পুলিশ কালবিলম্ব না করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ২১ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে আদালতে পাঠায়।

আদালতে বিচারক দ্রুত শুনানির মাধ্যমে ৮ অক্টোবরের ৫ আসামির সাজা ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বরুরিয়া গ্রামের মোঃ সালামত শেখের ছেলে মফিজুর রহমান রানাকে (২১) ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন। ব্রহ্মপুর গ্রামের আঃ আজিজের ছেলে ফাইজুল হক উজ্জ্বল (৩৮) পান ৭ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড। এছাড়া হিতামপুর গ্রামের জগবন্ধু বিশ্বাসের ছেলে শ্রী বিকাশ বিশ্বাস (৪০) এবং হাবিবপুর চরপাড়া গ্রামের মোঃ তাসের আলীর ছেলে শাহরিয়ার রাজিব জয়কে (২১) ৮ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে উত্তর মির্জাপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা (২৫) পান ৭ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১৫ দিনের জেল।

প্রথম দিনের অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই শৈলকুপা থানা পুলিশ ৯ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আরেকটি বিশেষ অভিযান চালায়। এবার কুশবাড়িয়া ও কবিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৪ জন তরুণকে আটক করে পুলিশ। তাদের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ডোপ টেস্টে সবার ফলাফল পজিটিভ আসে। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৬ ধারায় আইনি প্রসিকিউশন প্রস্তুত করে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে।

বিজ্ঞ বিচারক সামারি ট্রায়ালে ৯ অক্টোবরের চারজনকেও দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এদের মধ্যে কুশবাড়িয়া গ্রামের মোঃ নাছির মেম্বরের ছেলে মোঃ আশিককে (২২) ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। হাবিবপুর গ্রামের শাহেব আলীর ছেলে রাজন বিশ্বাস (৩০) পান সর্বোচ্চ ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২,০০০ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১৫ দিনের জেল। এছাড়া কবিরপুর গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে আবির হোসেন (২৫) ও হুমায়ুন কবিরের ছেলে শাহরিয়ার কবিরকে (২৩) ৫ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১,০০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা দিতে না পারলে উভয়েরই ৭ দিন করে অতিরিক্ত কারাভোগের নির্দেশ দেন আদালত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদক বিস্তারের কারণে এলাকায় নানা অপরাধ বাড়ছিল। মাদক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মাদক চক্রগুলো প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ($) অবৈধ মাদকের কারবার চালায়, যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ যুবসমাজের ওপরও। শৈলকুপায় ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ায় অপরাধীদের প্রায় ৮০% থেকে ৯০% এখন গা-ঢাকা দিয়েছে। পুলিশের এমন সক্রিয় পদক্ষেপ সাধারণ মানুষকে স্বস্তি জোগাচ্ছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, শৈলকুপাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নেই, আমরা ১০০% জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ডোপ টেস্ট ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় অপরাধীরা পার পাচ্ছে না। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে পুলিশের এই মাদকবিরোধী অভিযান সামনের দিনগুলোতেও চলবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ