ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা এলাকায় অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ১০ জনকে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। এর মধ্যে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ মেলায় তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি থানার নিয়মিত মামলায় দুজনকে এবং পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় শান্তি বিনষ্টের অভিযোগে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিন ও রাত্রিকালীন টানা এই সাঁড়াশি অভিযান চালায় শৈলকুপা থানা-পুলিশের কয়েকটি দল। পরে গ্রেপ্তার সকল আসামিকে প্রয়োজনীয় পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠায় পুলিশ।
থানা-পুলিশ জানায়, এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমাতে ও তরুণদের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পুলিশ বেশ কিছুদিন ধরেই মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে নেমেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শৈলকুপার বিভিন্ন গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তাঁদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে তাঁদের শরীরে মাদক গ্রহণের প্রমাণ শতকরা ১০০% পজিটিভ আসে। পরে শৈলকুপা থানা-পুলিশ দ্রুত তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে সংক্ষিপ্ত বিচার বা সামারি ট্রায়ালের জন্য আবেদন জানায়।
আদালতে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও চিকিৎসকের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট যাচাই-বাছাই শেষে বিচারক তিন মাদকসেবীর সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে উপজেলার বগুড়া গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে কাজী বোরহানকে (২৮) বিজ্ঞ আদালত ০৮ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১,০০০ টাকা (প্রায় $৮.৫ ডলার) জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি কৃত্তিনগর গ্রামের আজিবার রহমানের ছেলে জিল্লুর রহমান রুমান (২৪) পান ০৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ০৭ দিনের জেল। এ ছাড়া ঝাউদিয়া গ্রামের মৃত মানিকান্ত রায়ের ছেলে সঞ্জত রায়কে (৫০) আদালত ০৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
একই দিন শৈলকুপা পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত দিন ও রাতের যৌথ অভিযানে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গভীর রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি ও সাধারণ মানুষের শান্তি বিনষ্টের অভিযোগে তাঁদের হাতেনাতে ধরা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া এই পাঁচজন হলেন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার সাবিনগর গ্রামের মোঃ আবু বক্কার মন্ডলের ছেলে মোঃ ফায়জুল মন্ডল (২২), শৈলকুপার বগুড়া গ্রামের মৃত আছালত শেখের ছেলে মোঃ বিপুল শেখ (৪৪), ছাবিনগর এলাকার মোঃ সেলিম মোল্লার ছেলে মোঃ জিহাদ মোল্লা ওরফে জাহিদ (১৯), কৃত্তিনগর গ্রামের মোঃ মনোয়ার মুন্সীর ছেলে মোঃ মিঠুন মুন্সী (৩৮) এবং একই গ্রামের মৃত তোরাব আলী মন্ডলের ছেলে ইউনুছ আলী মন্ডল (৪৭)।
অন্যদিকে শৈলকুপা থানায় আগে থেকেই দায়ের হওয়া বিভিন্ন নিয়মিত মামলার এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত এই দুজন হলেন বসন্তপুর গ্রামের মৃত গোলাম আলীর ছেলে মোঃ আশিকুর রহমান (৪০) এবং কাশিনাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গণি খানের ছেলে মোঃ আক্তার হোসেন (৪৮)। শৈলকুপা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র প্রস্তুত করে তাঁদেরও আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সার্বিক অভিযান প্রসঙ্গে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, এলাকায় সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত করে এমন কোনো অপরাধী বা মাদক ব্যবসায়ীকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নির্মূলে শৈলকুপা থানা-পুলিশের দিন ও রাত্রিকালীন এই সাঁড়াশি অভিযান শতভাগ সক্রিয় থাকবে। তিনি স্থানীয় নাগরিকদের অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে নিয়মিত সহযোগিতা করার বিশেষ আহ্বান জানান।
















