শৈলকুপায় বিশেষ অভিযানে ৭ মাদকসেবী গ্রেপ্তার: বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় মাদক নির্মূলে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন ও রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মোট ৭ জন মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আটক ব্যক্তিদের দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের প্রত্যেককে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে তাদের অতিরিক্ত কয়েক দিন কারাভোগ করতে হবে বলে আদালত আদেশে উল্লেখ করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক সেবন এবং ছোটখাটো অপরাধ প্রায় ৪০% থেকে ৫০% বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আসছিল। এই পরিস্থিতিতে শৈলকুপা থানা পুলিশ এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেয়। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট, বাজার এলাকা ও নির্জন আস্তানায় পুলিশ একযোগে ঝটিকা অভিযান চালায়। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই পুলিশ পুরো উপজেলার অলিগলিতে তল্লাশি জোরদার করে।

আদালত যে সাতজনকে সাজা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে মালিপাড়া গ্রামের হালিম মোল্লার ছেলে ৪০ বছর বয়সী মোঃ মাসুদ মোল্লাকে চার মাসের কারাদণ্ড এবং ২০০ ৳ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত ১৫ দিন জেল খাটতে হবে। চন্ডিপুর গ্রামের নরেশ দাসের ছেলে ৩৮ বছর বয়সী অলক দাসকে আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১০০০ ৳ জরিমানা ধার্য করেন, অনাদায়ে আরও ১০ দিনের জেল। শৈলকুপা হাজী মার্কেট দাসপাড়ার হরে দাসের ছেলে ৪০ বছর বয়সী নয়ন দাসকে আদালত সর্বোচ্চ সাত মাসের কারাদণ্ড ও ১০০০ ৳ জরিমানা করেন। এই জরিমানা পরিশোধ না করলে নয়ন দাসকে অতিরিক্ত ১০ দিন সাজা ভোগ করতে হবে।

অভিযানে আটক আরও চারজনের বিরুদ্ধেও কঠোর রায় দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। তাদের মধ্যে কুলচারা সাতবিলা গ্রামের ওহিদুল ইসলামের ছেলে ২৬ বছর বয়সী মোঃ মাজেদুল ইসলাম চার মাসের কারাদণ্ড ও ১০০০ ৳ অর্থদণ্ড পেয়েছেন, অনাদায়ে ১০ দিনের সাজা। একই গ্রামের হাবিল হোসেনের ছেলে ২৫ বছর বয়সী তরুণ মোঃ আলামিন হোসেনকে আদালত পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২০০০ ৳ জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ না দিলে তাকে অতিরিক্ত ১৫ দিন জেলে থাকতে হবে। এছাড়া খাসবগদিয়া গ্রামের রতন হোসেনের ছেলে ২১ বছর বয়সী মোঃ অন্তর হোসেনকে চার মাসের জেল ও ১০০০ ৳ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, অনাদায়ে ১০ দিন কারাদণ্ড। অন্যদিকে হাটগোপালপুরের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী মকছেদ আলীকে তিন মাস ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ১০০০ ৳ অর্থদণ্ড দেন আদালত। সব মিলিয়ে এই আসামিদের ওপর মোট ৬২০০ ৳ বা প্রায় $৫০ ডলার মূল্যের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে সোপর্দ করার পর আসামিরা নিজেদের কৃতকর্মের বিষয়টি স্বীকার করে। আদালত অবিলম্বে এই দণ্ড কার্যকর করে আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। আদালতের এই দ্রুত সিদ্ধান্তের ফলে এলাকায় মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এক ধরনের কড়া বার্তা পৌঁছেছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, ঝিনাইদহ জেলাকে মাদক ও অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ সবসময় তৎপর। কোনো মাদকসেবী বা কারবারিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, পুলিশের কাছে স্থানীয় নানা এলাকা থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছিল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতেই পুলিশের এই দিন-রাতের অভিযান ভবিষ্যতে ১০০% কঠোরভাবে চালু রাখা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের এমন কঠোর পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। শৈলকুপার এক প্রবীণ বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন অলিগলিতে উঠতি বয়সের যুবকেরা দল বেঁধে মাদক নিত। পুলিশের এই অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষ এখন নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। স্থানীয়দের ধারণা, এভাবে তদারকি অব্যাহত থাকলে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের হার অন্তত ৭০% কমে আসবে।

শৈলকুপা থানা পুলিশ সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছে যে, এলাকাকে শান্ত রাখতে তাদের এই সাঁড়াশি কার্যক্রম সামনে আরও জোরদার করা হবে। কেউ মাদকের খবর পেলে দ্রুত যেন পুলিশকে জানায়, সেই আহ্বানও রেখেছেন ওসি। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে যেকোনো মূল্যে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে প্রশাসন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ