শৈলকুপায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: নারী নির্যাতন ও মাদক মামলার আসামি গ্রেফতার, ২ জনের সাজা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা পুলিশের দিন ও রাত্রিকালীন সাঁড়াশি অভিযানে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার দুই এজাহারনামীয় আসামিসহ দুই মাদকসেবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত আদালতে পাঠালে মাদক মামলায় দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন বিজ্ঞ বিচারক। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামিদেরও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে এলাকায় বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে শৈলকুপা থানা পুলিশ দিন ও রাতে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। শনিবারের মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশ হাতেনাতে দুই মাদকসেবীকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হয়। বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে আসামি শুভংকার কুমার ওরফে শুভ ওরফে ভোলাকে (২১) ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সাথে তাকে ১০০০/- টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। শুভংকার রাজবাড়ী জেলার কালুখালী থানার মৃগী গ্রামের দিলীপ রায়ের ছেলে।

অভিযানে আটক অপর মাদকসেবী বিএম জিসানকে (১৯) আদালত ৯ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তার ওপরও ১০০০/- টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়, যা অনাদায়ে তাকে আরও ১০ দিন সশ্রম কারাদণ্ড খাটতে হবে। বর্তমানে এই ১০০০/- টাকা আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রায় $৮.৫০ ডলারের সমতুল্য। দণ্ডপ্রাপ্ত জিসান শৈলকুপা উপজেলার দেবতলা গ্রামের আতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তবে সে দীর্ঘদিন কবিরপুর এলাকার আশা অফিসের পাশে বসবাস করছিল। সাজা ঘোষণার পর পুলিশ দুজনকেই জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

শুধু মাদক সেবনেই নয়, শুভংকার কুমারের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ। পুলিশের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬)-এর ৯(১)/৭/৩০ ধারায় একটি মামলা হয়েছিল, যার নম্বর ১৪। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ তাকে খুঁজছিল। অবশেষে মাদকবিরোধী অভিযানের জালে ধরা পড়ায় তাকে ধর্ষণ ও অপহরণের এজাহারনামীয় আসামি হিসেবেও আদালতে সোপর্দ করা হয়।

শৈলকুপা থানা পুলিশ একই দিনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আরেকটি মামলার প্রধান আসামিকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৬)-এর ৭/৩০ ধারায় ২২ নম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে এজাহারনামীয় আসামি মোঃ আরিয়ান মেহেদীকে (২৮) গ্রেফতার করে। ধৃত আরিয়ান শৈলকুপা থানার বড়দাহ গ্রামের মোঃ রবিউল ইসলামের ছেলে। পুলিশ তাকেও বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদক কারবার এবং বখাটেদের দৌরাত্ম্য সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ১৫% থেকে ২০% পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশের এই কড়া নজরদারির ফলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সাধারণ মানুষ এখন অনেকটাই নিরাপদ বোধ করছেন। এলাকার সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, যেন এই অভিযান অব্যাহত থাকে এবং অপরাধীদের শতভাগ অর্থাৎ ১০০% আইনের আওতায় আনা হয়। এতে সমাজে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা পুরো অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শৈলকুপাকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি জানান, শৈলকুপায় কোনো ধরনের মাদক কারবারি, সেবনকারী কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমাদের বিশেষ অভিযান নিয়মিত চলবে। তিনি অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে এলাকাবাসীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ