শৈলকুপায় দিন-রাত পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৩ পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, একজনের কারাদণ্ড

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা পুলিশ দিন ও রাতব্যাপী সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ৩ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া এক তরুণ মাদকসেবীকে বিজ্ঞ আদালত ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ড দিয়েছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর দিনভর ও গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ দল। পরদিন গ্রেপ্তারকৃত সব আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। পুলিশের এমন তৎপরতায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত আইনগত অভিযানের অংশ হিসেবে শৈলকুপা থানার উপপরিদর্শক ও সহকারী উপপরিদর্শকদের নেতৃত্বে কয়েকটি বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালায়। এর মধ্যে শৈল জিআর-১৪৬/২৬ নম্বর মামলার দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ৩ আসামিকে বড় মৌকুড়ি গ্রাম থেকে পুলিশ সরাসরি গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ওই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. খবির, নায়েব আলী শেখের ছেলে মো. বাবু এবং তোহব শিকদারের ছেলে মো. জাহিদ। তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত থেকে নির্দিষ্ট মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা পুলিশের নজর এড়িয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে দিন কাটাচ্ছিলেন।

অন্যদিকে শৈলকুপা থানা পুলিশের আরেকটি দল উপজেলার কবিরপুর ও দেবতলা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে কবিরপুরের আশা এনজিও অফিসের পাশ থেকে বিএম জিসান (১৯) নামের এক মাদকসেবীকে পুলিশ হাতেনাতে আটক করে। তরুণ জিসান দেবতলা গ্রামের আতিয়ার বিশ্বাসের ছেলে, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবিরপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করলে আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে তাকে ০৬ মাসের কারাদণ্ড এবং নগদ ১,০০০ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এই টাকা অনাদায়ে তাকে আরও অতিরিক্ত ১০ দিন জেলহাজতে কাটাতে হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, গ্রামাঞ্চলে তরুণ সমাজের প্রায় ১৫% থেকে ২০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রার হিসাবে যেখানে লাখ লাখ টাকা বা শত শত $ ডলারের মতো বড় অঙ্কের ক্ষতি সাধিত হয়। এমন বাস্তবতায় শৈলকুপা থানা পুলিশের মাদকবিরোধী নিয়মিত কঠোর পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয় অভিভাবকেরা মনে করেন, মাদক চক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে হলে পুলিশের এমন তাৎক্ষণিক শাস্তি ও জেল-জরিমানা নিশ্চিত করার কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখা জরুরি।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা পুরো অভিযানের বিষয়ে জানান, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে পুলিশ সদস্যরা দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের একমাত্র মূল লক্ষ্য হলো শৈলকুপা উপজেলাকে ১০০% মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা। পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা অপরাধ করে কখনো বুক ফুলিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়াতে পারবে না। পুলিশ তাদের প্রত্যেকের অবস্থান শনাক্ত করে আইনের মুখোমুখি করবে। একই সঙ্গে মাদক সেবনকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানা পুলিশের কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি সবসময় কার্যকর থাকবে।

ওসি মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা আরও উল্লেখ করেন, অপরাধ দমনে কোনো অপরাধীকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সাধারণ জনগণকে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান এবং যেকোনো মাদক কারবারি কিংবা পলাতক আসামির গোপন সন্ধান পেলে সরাসরি থানা পুলিশকে অবহিত করতে বলেন। সঠিক তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় পুলিশ প্রশাসন শতভাগ গোপন রাখবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় সহযোগিতা পেলে শৈলকুপা থেকে মাদক ও সহিংস অপরাধ চিরতরে নির্মূল করা অনেক সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ দল গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিয়মিত তল্লাশি চৌকি বসিয়ে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। শৈলকুপা থানা কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে এবং সমাজ থেকে অপরাধের বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলতে সামনের দিনগুলোতে দিন ও রাত্রিকালীন এই বিশেষ সাড়াশি অভিযান আরও বেশি জোরদার করা হবে। আইন অমান্যকারী কাউকে কোনো ধরনের সুপারিশের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ