দূরপাল্লার বাসে বাড়ল ভাড়া: ঢাকা থেকে পঞ্চগড় ১,৩৭৬ ও টেকনাফ ১,৪৩৫ টাকা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ল সাধারণ মানুষের ওপর। দূরপাল্লার বাসযাত্রীদের পকেট থেকে আরও বেশি টাকা খসার আনুষ্ঠানিক বন্দোবস্ত করল সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দূরপাল্লার বাসের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়িয়ে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া গড়ে প্রায় ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত বেড়েছে। তবে তালিকা প্রকাশের আগেই গত রোববার তেলের দাম বাড়ার পর থেকেই পরিবহনমালিকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে দূরত্বভেদে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নিচ্ছিলেন।

বিআরটিএর নতুন তালিকা অনুযায়ী, দূরপাল্লার ৫১ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। তবে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য অধিকাংশ পরিবহন কোম্পানি এখন বাসের আসন কমিয়ে ৪০টিতে নামিয়ে এনেছে। এতে বাদ পড়া আসনগুলোর খরচও সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপানো হচ্ছে। এছাড়া দূরপাল্লার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা এসি বাসের ভাড়া সরকার ঠিক করে দেয় না। ফলে মালিকেরা নিজেদের মতো করে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা বা প্রায় $১২ থেকে $২০ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছেন।

উত্তরাঞ্চলের পথে ঢাকা থেকে সবচেয়ে দূরের জেলা পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৪৩৮ কিলোমিটার। নতুন নিয়মে এই পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১১৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৬ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ২৬৩ টাকা। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ যাতায়াতে এই বাড়তি ভাড়ার কারণে বিপাকে পড়বেন। যমুনা সেতুর টোলসহ ৫১ আসনের সাধারণ বাসে এই ভাড়া ১ হাজার ৮৬ টাকা। ঢাকা থেকে বগুড়ার ১৯১ কিলোমিটার দূরত্বের ভাড়া ৫০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬২০ টাকা। এছাড়া রাজশাহীগামী যাত্রীদের ২৪৭ কিলোমিটারের জন্য এখন গুনতে হবে ৭৯২ টাকা, যেখানে আগের ভাড়া ছিল ৭২৭ টাকা।

দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম সড়কপথ হলো ঢাকা থেকে টেকনাফ। ৪৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১২৬ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৫ টাকায়, যা আগে ছিল ১ হাজার ৩০৯ টাকা। অন্যদিকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ৩৯৬ কিলোমিটার পথের ভাড়া ১ হাজার ১২৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৩৩ টাকা করেছে সরকার। ভ্রমণ মৌসুমে পর্যটকদের জন্য এই খরচ আরও বাড়তি চাপ তৈরি করবে। আর ঢাকা থেকে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ২৪২ কিলোমিটার দূরত্বের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫৭ টাকা, যা আগের তুলনায় ৬৭ টাকা বেশি।

সিলেট ও পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদেরও এখন বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। ঢাকা থেকে নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সিলেটের ২৫৭ কিলোমিটার পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৭৯৬ টাকায়, যা আগে ছিল ৭২৮ টাকা। অর্থাৎ এই পথে ভাড়া বাড়ল ৬৮ টাকা। আর মাত্র ১০২ কিলোমিটার দূরত্বের ঢাকা-কুমিল্লা পথে ১৮ থেকে ৩১ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২৮ টাকা। তবে সাধারণ ৫১ আসনের বাসে এই পথে ভাড়া হবে ২৫৭ টাকা।

পদ্মা সেতু চালুর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের সময় অনেক কমেছে, কিন্তু নতুন তালিকায় যাত্রীদের খরচের বোঝাও বেড়েছে। ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর মতো বড় কাঠামোর কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত টোল গুনতে হয়। যেমন, ঢাকা থেকে খুলনার ২০৫ কিলোমিটার পথে যাত্রীপ্রতি টোলই পড়ে প্রায় ১০৭ টাকা। এই পথে ৪০ আসনের বাসের ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৭৩৪ টাকা। এছাড়া ১৭১ কিলোমিটারের বরিশালে ভাড়া ৯৫ টাকা বেড়ে ৬২৯ টাকা এবং কুয়াকাটায় ৮৮ টাকা বেড়ে ৯৯৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ।

বিআরটিএর পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, পরিবহনমালিকেরা এই নতুন তালিকা মানতে বাধ্য। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। তবে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান জানান, তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়া স্বাভাবিক হলেও সরকার নির্ধারিত হার মালিকেরা মাঠে মানেন না। যাত্রীদের কাছ থেকে সবসময়ই বেশি টাকা আদায় করা হয়। মূল্যস্ফীতির এই দুঃসময়ে সাধারণ যাত্রীদের ওপর যাতে কোনো ধরনের বাড়তি জুলুম না হয়, সেদিকে সরকারকে কঠোরভাবে নজর দিতে হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ