শৈলকুপায় জামায়াতের গণসংযোগে হামলা ও ভাঙচুর, আহত অন্তত ৮

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ কর্মসূচিতে বাধা ও অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের লাঙ্গলবাদ বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। হামলায় জামায়াতের অন্তত ৮ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা ৩ থেকে ৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতৃত্বের অভিযোগ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির নেতৃত্বে বিএনপির একদল নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে লাঙ্গলবাদ বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করে লিফলেট বিতরণ করছিলেন জামায়াতের কর্মীরা। দলটির নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত এই গণসংযোগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক এএসএম মতিউর রহমান। কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ করেই ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল সেখানে এসে উপস্থিত হয়। তারা জামায়াত নেতাকর্মীদের গণসংযোগ বন্ধ করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার কড়া নির্দেশ দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। জামায়াত নেতাদের দাবি, কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই ছাত্রদলের কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর সরাসরি চড়াও হয়। অতর্কিত এই আক্রমণে পুরো বাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ও দোকানিরা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। হামলাকারীরা বাজারে রাখা ৪টি মোটরসাইকেল পিটিয়ে দুমড়েমুচড়ে দেয়। স্থানীয়দের হিসাব মতে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর প্রায় ৮০% যন্ত্রাংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যার আনুমানিক ক্ষতি প্রায় $1,200 ডলার বা দেশীয় মুদ্রায় দেড় লাখ টাকারও বেশি।

হামলায় জামায়াতের ৮ জন নেতাকর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে ৪ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মো. শাহিনুর রহমান (৩২), পিতা: সিদ্দিক হোসেন; আবুল হোসেন (৫০), পিতা কাজেদ আলী; আব্দুল আজিজ (৫৫), পিতা আব্দুল করিম বিশ্বাস এবং আলমগীর জলিল সফর (৫৫)। অন্য আহত চারজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও তাঁরা স্থানীয় জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় ক্লিনিক ও শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জানান, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠির আঘাত ও রক্তক্ষরণের জখম রয়েছে।

হামলার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু ঈছা বলেন, “আমরা ১০০% শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সাধারণ মানুষের কাছে দলের বার্তা তুলে ধরছিলাম। আমাদের দলের উপজেলা আমিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই ছাত্রদল নেতা সোহাগ ও তাঁর অনুসারীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালায়। তারা আমাদের অন্তত ৮ জন ভাইকে রক্তাক্ত করেছে এবং গাড়ি ভেঙেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”

এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি সোহাগ কিংবা উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূলের কয়েকজন সমর্থক দাবি করেন, এলাকায় গণসংযোগের নামে জামায়াতের কর্মীরা উসকানিমূলক কিছু কথা বলছিলেন। তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়, তবে সেখানে কোনো পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেনি। ভাঙচুরের অভিযোগও সঠিক নয় বলে তারা দাবি করেন।

খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা থেকে পুলিশের একটি দল দ্রুত লাঙ্গলবাদ বাজারে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, “লাঙ্গলবাদে দুই পক্ষের বিরোধ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্পর্কিত নিবন্ধ