ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জনবান্ধব আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহফুজুর রহমান। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দাপ্তরিক কক্ষে শুধু ফাইলবন্দী না থেকে তিনি প্রায় প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে। সাধারণ মেহনতি মানুষের দুঃখ-কষ্ট সরাসরি নিজ কানে শোনা এবং সরকারি নাগরিক সেবা তাদের ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর এই সক্রিয় উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি উপজেলার প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সরাসরি নিজে তদারকি করছেন।
কৃষিপ্রধান শৈলকুপা উপজেলায় কৃষকদের অধিকার রক্ষা ও সহায়তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এই কর্মকর্তা। সম্প্রতি বোরো ও রবি মৌসুমে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অবৈধ সার মজুদের বিরুদ্ধে তিনি সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে লুকিয়ে রাখা শত শত বস্তা সার উদ্ধার করেন এবং সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে তা বিতরণের কঠোর ব্যবস্থা নেন। প্রশাসনের এমন দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে সারের কালোবাজারি প্রায় শতভাগ বন্ধ হয়েছে এবং কৃষকদের দুর্ভোগ অন্তত ৮০% কমে এসেছে, যা স্থানীয় কৃষিব্যবস্থায় বড় স্বস্তি ফিরিয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন ইউএনও। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সিন্ডিকেট ভাঙতে তিনি উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে প্রতিটি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করেছেন। বিভিন্ন অনিয়ম, খাদ্যে ভেজাল ও ওজনে কারচুপির দায়ে দোষী ব্যবসায়ীদের জরিমানা করার পাশাপাশি সতর্ক করছেন। প্রশাসনের এই নিয়মিত তদারকির ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের প্রতি মাসে প্রায় $৫০ থেকে $৭০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অতিরিক্ত খরচের বোঝা থেকে মুক্তি মিলছে বলে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে নিয়মিত উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করছেন ইউএনও মাহফুজুর রহমান। জমিজমা সংক্রান্ত সীমানা বিরোধ, ভূমিহীনদের আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ, এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতার মতো সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগী নির্বাচনে তিনি সরাসরি বঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলছেন। কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের উপস্থিতি ছাড়াই তিনি সেবা নিশ্চিত করছেন। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, গণশুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের বিভিন্ন আবেদনের প্রায় ৯০% সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে, যা প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘদিনের আইনি হয়রানি লাঘব করেছে।
শৈলকুপার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমকে বেগবান করতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনখনন, প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি সেবার মান বাড়াতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সচেতন সুশীল সমাজের সঙ্গে নিবিড় মেলবন্ধন বজায় রেখে তিনি কাজ করছেন, যাতে জাতীয় বরাদ্দের শতভাগ সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়।
মাঠপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে সানন্দে গ্রহণ করেছেন শৈলকুপার সর্বস্তরের নাগরিকরা। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও সমাজসেবকেরা বলছেন, অতীতে সাধারণ একটি প্রত্যয়নপত্র বা সরকারি সুবিধার জন্য দপ্তরে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এখন একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে মাঠে নেমে মানুষের সমস্যা সমাধান করায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ৯০% বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ কোনো ভয় বা সংকোচ ছাড়াই সরাসরি নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারছেন, যা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের বাস্তব প্রতিফলন।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, শৈলকুপাকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব মডেল উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের মনিব নন, বরং সেবক। তাই মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সবাইকে শতভাগ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি শৈলকুপাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের এই গতি আগামীতেও বজায় রাখার দৃঢ় প্রত্যয় জানান।
















