শিমুল তাইড়ে জুমার খুতবা দিলেন ফ্রেশ বাজারের চেয়ারম্যান শাহীন মন্ডল: মসজিদ উন্নয়নে অনুদান ৫০ হাজার টাকা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শিমুল তাইড় আহলে হাদীস জামে মসজিদে জুমার নামাজে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খুতবা দিয়েছেন দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী ও ফ্রেশ বাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবিত্র জুমার নামাজের পূর্বে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে দিকনির্দেশনামূলক এই খুতবা প্রদান করেন। খুতবা শেষে তিনি মসজিদটির চলমান উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য মসজিদ পরিচালনা কমিটির হাতে এককালীন নগদ ৫০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে তুলে দেন। এই আয়োজনকে ঘিরে পুরো মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য লক্ষ্য করা যায়।

জুমার বয়ানে আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডল পবিত্র কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ঈমান, আমল, নৈতিক চরিত্র এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একজন প্রকৃত মুসলমানের দায়িত্ব কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের দুর্বল, অসহায় ও প্রতিবেশী মানুষের পাশে দাঁড়ানোও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। তিনি উপস্থিত সবাইকে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, তরুণ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে রাখা এবং পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসন বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর সহজ ও সাবলীল উপস্থাপনা সাধারণ মুসল্লিদের মনে গভীর দাগ কাটে।

ব্যবসায়িক সততা ও হালাল উপার্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে শতভাগ (১০০%) সততা বজায় রাখা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, সততার সাথে অর্জিত দেশীয় টাকা হোক কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে উপার্জিত ডলার ($), প্রতিটি সম্পদের নির্দিষ্ট একটি অংশ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সমাজকল্যাণে ব্যয় করা উচিত। ধনী ও বিত্তবানরা যদি তাঁদের উপার্জনের সঠিক যাকাত ও সাদাকাহ প্রদান করেন, তবে সমাজে কোনো মানুষ অনাহারে কিংবা চিকিৎসা ছাড়া কষ্ট পাবে না। সমাজের সর্বস্তরে ইনসাফ ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

খুতবা ও নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শিমুল তাইড় আহলে হাদীস জামে মসজিদের অবকাঠামোগত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডল কমিটির কর্মকর্তাদের হাতে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে মসজিদের অজুখানা, ছাদ ও মেঝের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। চলমান সংস্কার কাজের প্রায় ৬০% ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য এই আর্থিক অনুদান অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলে তারা জানান।

টাকা হস্তান্তরের সময় মসজিদে উপস্থিত ছিলেন জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম মাওলানা আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আনছারী, মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. মোসলেম মিয়া, সহ-সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম এবং ক্যাশিয়ার মো. আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডলের এই সময়োপযোগী ও উদার সহায়তার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও এভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে এগিয়ে আসবেন।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে উপস্থিত মুসল্লিরা যাতে জুমার খুতবার শিক্ষা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারেন এবং সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি ছড়িয়ে দিতে পারেন, সেই প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে অনুদান প্রদানকারী ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সার্বিক কল্যাণ এবং মসজিদটির উন্নয়নের বাকি কাজ যেন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়েও আল্লাহর সাহায্য চাওয়া হয়।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ শাহীন মন্ডল নিজ এলাকায় এসে যেভাবে সাধারণ মানুষের সাথে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন এবং খুতবার মাধ্যমে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। গ্রামীণ জনপদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সমাজের বিত্তবানদের এমন সরাসরি সম্পৃক্ততা স্থানীয় উন্নয়নকে আরও গতিশীল করে তুলবে। শুক্রবারের এই মহতী উদ্যোগ শিমুল তাইড় গ্রামের মুসল্লিদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন ও ধর্মীয় চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ