আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। শুক্রবার বিকেলে শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে জাঙ্গালিয়া বাজারে এক বিশাল গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা সেক্রেটারি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী সাদ্দাম হোসেনসহ ইউনিয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বাজারের ব্যবসায়ী, সাধারণ পথচারী ও এলাকাবাসীর সাথে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে পুরো কর্মসূচি এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় রূপ নেয়।
কর্মসূচির শুরুতে নেতারা জাঙ্গালিয়া বাজারের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানে যান এবং ভোটারদের সাথে হাত মিলিয়ে দোয়া ও সমর্থন চান। দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই জনপদের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার, বর্ষাকালের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নানা অভাব-অভিযোগ গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রার্থীরা। নেতারা আশ্বাস দেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে কাঁচেরকোল ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় মানুষের পাশে থাকবে।
গণসংযোগ চলাকালে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অতীতের সরকারগুলোর আমলে ইউনিয়ন পরিষদ ছিল অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া। সরকারের বরাদ্দ করা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা কিংবা টিসিবির খাদ্যসামগ্রী পেতে সাধারণ দরিদ্র মানুষকে নিয়মিত ঘুষ দিতে হতো। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদকে শতভাগ (১০০%) ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। উন্নয়ন বরাদ্দের একটি পয়সাও নয়ছয় হতে দেওয়া হবে না। জনগণের প্রকৃত সেবক হয়ে তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।
ইউনিয়নের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, কাঁচেরকোল ইউনিয়নের প্রায় ৮০% মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এলাকার বহু তরুণ মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ-আমেরিকায় কঠোর পরিশ্রম করে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার ($) রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন। প্রবাসীদের পাঠানো এই রক্ত পানি করা অর্থের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ ও স্থানীয় কাঁচামাল কাজে লাগিয়ে এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। এতে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে এবং গ্রামেই তরুণদের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
পথসভায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন। এলাকার অবহেলিত রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট দূর করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। মেম্বার নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের ১০০% মতামত নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তরুণ এই প্রার্থীর আন্তরিক বক্তব্য স্থানীয় ভোটারদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করে।
ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত আমীর জুলকারনাইন এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি শামসুল ইসলাম তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কাঁচেরকোলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়েছে। এখন সময় এসেছে ভয়ভীতি ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার। তাঁরা স্থানীয় ভোটারদের কোনো ধরনের আর্থিক প্রলোভনে পা না দিয়ে পরোপকারী ও চরিত্রবান প্রার্থীদের বিজয়ী করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
পথসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাঁচেরকোল ইউনিয়ন ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের সমর্থন জানান। ভোটাররা বলেন, তাঁরা এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সত্যিকারের উন্নয়ন দেখতে চান। কর্মসূচি শেষে নেতারা জাঙ্গালিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচারপত্র বিলি করেন এবং ইউনিয়নের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এই গণসংযোগের ধারা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
















