ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় মাদক ও নানা অপরাধ দমনে দিন-রাত টানা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সারাদিন ও রাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একযোগে এ বিশেষ অভিযান চলে। শৈলকুপা থানা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নেমে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে দুই মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। বাকিদের নিয়মিত মামলা, পুলিশ আইনের বিশেষ ধারা ও আদালতের পরোয়ানার আওতায় আদালতে চালান করা হয়। পুলিশের এ পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে চরপাড়া শেখপাড়া এবং বাজারপাড়া এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে মাদক সেবনের সময় হাতেনাতে দুই মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত উভয়কে সাজা দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চরপাড়া শেখপাড়ার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে সাইদ আহমেদকে (২৮) ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। অপরদিকে বাজারপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম জাফরের ছেলে মোঃ সাকিবুল হাসান শাওনকে (১৯) ৮ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন বিজ্ঞ বিচারক।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি শৈলকুপা থানা পুলিশ নিয়মিত মামলার আসামিদের গ্রেফতারেও জোর দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর শৈলকুপা থানার ১৫ নম্বর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ জুয়েল মোল্লা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কাচেরকোল এলাকার মোঃ মজিবর মোল্লার ছেলে সেন্টুর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর পরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেন্টুকে পাকড়াও করে আদালতে পাঠায়।
এদিকে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে শৈলকুপা থানা পুলিশ পরোয়ানাভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় লুকিয়ে ছিল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন জিআর ১৮৫/২৬ নম্বর মামলার আসামি লক্ষণদিয়া গ্রামের মবিরুল শেখের ছেলে মোঃ মুন্না শেখ (২৩), জিআর ১৭০/২৬ নম্বর মামলায় সারুটিয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল শেখের ছেলে মোঃ আক্তার শেখ এবং এনজিআর ১০/২৬ নম্বর মামলায় বগুড়া গ্রামের মোঃ আরব আলী শেখের ছেলে রুমান শেখ। একই রাতে শ্রীপুর থানার সিআর ১২৯/২৬ নম্বর মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের রুস্তম বিশ্বাসের ছেলে মোঃ সাদ্দাম বিশ্বাসকেও পুলিশ আটক করে।
এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রকাশ্য স্থানে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেনমধুপুর এলাকার ঝন্টু মন্ডলের ছেলে মোঃ সায়েম হোসেন সাগর (১৯) এবং হাটফাজিলপুর গ্রামের মৃত তহিম বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আরব আলী (৪৫)। সড়কে বিশৃঙ্খলা ও জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শৈলকুপায় পুলিশের এমন পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উপজেলার সাধারণ বাসিন্দাদের প্রায় ১০০% মানুষই চান মাদকমুক্ত পরিবেশ। স্থানীয়রা জানান, মাদকাসক্তরা সামান্য টাকার জন্য কিংবা $১০ বা $২০ ডলারের সমপরিমাণ মাদকের নেশায় পরিবারে অশান্তি ডেকে আনে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে শৈলকুপার প্রায় ৯০% অভিভাবক নিয়মিত পুলিশি টহলের পক্ষে মত দিয়েছেন। পুলিশের কঠোরতায় এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসছে।
অভিযানের বিষয়ে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা শৈলকুপাকে সম্পূর্ণ অপরাধ ও মাদকমুক্ত করতে কাজ করছি। আইনের হাত থেকে অপরাধীদের বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিন-রাত আমাদের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
















