ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় দিন ও রাতে সাঁড়াশি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে দুই মাদকসেবীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। পরবর্তীতে তাঁদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত উভয় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। শৈলকুপা থানা-পুলিশের একাধিক দল গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই পুলিশ আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পরিচয় নিশ্চিত করেছে শৈলকুপা থানা-পুলিশ। তাঁরা হলেন উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার ছেলে মোঃ মাহিন মোল্লা (২১) এবং চরপাড়া শেখপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে সাইদ আহমেদ (২৮)। বিজ্ঞ আদালত আসামি মাহিন মোল্লাকে ৫ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন এবং সঙ্গে ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানার এই টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে আরও ১০ দিনের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অপর আসামি সাইদ আহমেদকে আদালত ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১,০০০ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁকেও অতিরিক্ত আরও ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড খাটতে হবে।
শৈলকুপা থানা-পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় কিছু তরুণ ও যুবক নিয়মিত মাদক সেবন এবং ছোটখাটো কারবারে জড়িয়ে পড়ছে বলে পুলিশের কাছে খবর আসে। বিশেষ করে শেখপাড়া ও চরপাড়া এলাকার নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মাদকসেবীদের আনাগোনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের বিশেষ দল সাদা পোশাকে ও পোশাকে ভাগ হয়ে দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশ হাতেনাতে মাহিন মোল্লা ও সাইদ আহমেদকে মাদক সেবনরত অবস্থায় ধরে ফেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা নেশার টাকা জোগাড় করতে এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং নানা ধরনের পারিবারিক অশান্তি তৈরি করে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করায় গত কয়েক মাসে শৈলকুপায় অপরাধের হার প্রায় ২৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলো কোটি কোটি $ (ডলার) মূল্যের মাদকের কারবার চালিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপথগামী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ সেই অশুভ চক্র ভেঙে দিতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরবরাহ বন্ধ করতে কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানা এখন ১০০% কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
গ্রেপ্তারের পরপরই থানা-পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁদের আদালতে উপস্থাপন করে। আদালতে সাক্ষ্য ও পুলিশের জমা দেওয়া নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। স্থানীয় আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বিচারিক আদালত দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আদেশ দেওয়ায় এলাকায় অপরাধপ্রবণতা কমবে। সাধারণ মানুষও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আরও বেশি আস্থাশীল হবে এবং অন্য মাদকাসক্তরা এই শাস্তির খবর জেনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে উৎসাহিত হবে।
মাদকবিরোধী এই বিশেষ অভিযান সম্পর্কে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা শৈলকুপা থানাকে একটি সুন্দর, নিরাপদ এবং শতভাগ মাদক ও অপরাধমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আমাদের দিন ও রাত্রিকালীন বিশেষ অভিযান কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই একটানা চলবে। তিনি আরও জানান, শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়েও এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তিকেই ছাড় দেওয়া হবে না, অপরাধীর পরিচয় যাই হোক না কেন।
আদালতের এই কঠোর রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ বাসিন্দা ও অভিভাবক মহল। শেখপাড়া এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, গ্রামে উঠতি বয়সের ছেলেরা মাদকে জড়িয়ে পড়লে পুরো সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়। পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও আদালতের এমন বিচার স্থানীয় পরিবেশকে নিরাপদ রাখছে। ওসি মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং এলাকায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে পুলিশকে জানান। তথ্যদাতার পরিচয় সব সময় গোপন রাখা হবে।
















