স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়: সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই বলে পরিষ্কার জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান নির্বাচনী আইনে এ বিষয়ে কোনো ধরনের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়নি। রোববার সচিবালয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের নেতৃত্ব যেন সর্বস্তরের যোগ্য মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকে, আইনপ্রণেতারা সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আইন তৈরি করেছেন।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার কেবল নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তিনি নির্বাচনী আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী প্রজাতন্ত্র বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সার্বক্ষণিক লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী এমপিওভুক্ত পদটিও একটি লাভজনক পদ। মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও নির্বাচনী আইনের এই দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশনই স্পষ্ট জানাবে শিক্ষকেরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না।

এর আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের দপ্তরে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, তৃণমূলের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দেশটির প্রায় $৫০ মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্প বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান রয়েছে। এই তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করার ব্যাপারে উভয় পক্ষই একমত প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, কার্যকর স্থানীয় সরকার ছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রের সুফল পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০% মানুষ গ্রামে বাস করে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ ঘটাতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদগুলোকে নিজস্ব আয়ে স্বাবলম্বী হতে হবে, যাতে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর ১০০% নির্ভর করতে না হয়। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

আলোচনায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়েই উল্লেখ করেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ প্রায় ৫০% নারীকে অর্থনৈতিক মূলধারার বাইরে রেখে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নারীদের জন্য অন্তত ৩৩% সংরক্ষিত সুযোগ নিশ্চিতের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে তাঁদের স্বাবলম্বী করার নানা দিক বৈঠকে উঠে আসে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পরিষদগুলোকে আরও বেশি তহবিল ও কারিগরি সুবিধা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং জনসেবা আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা ও জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ অনেক ইতিবাচক বিষয় গ্রহণ করতে পারে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে নির্বাচন আয়োজন করলে স্থানীয় সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বহুগুণ বাড়বে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ