রাজধানীর গুলশানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর গোপন আঁতাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, প্রকাশ্যে বিরোধিতার কথা বললেও তলে তলে জামায়াত নেতাদের সাথে আওয়ামী লীগের নিবিড় যোগাযোগ চলছে। আর এই যোগাযোগের আশ্বাসে ভর করেই বিতাড়িত আওয়ামী লীগ আবারও রাজপথে নামার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিন সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী অর্থাৎ ৯০ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সূচনা হয়। রাশেদ খাঁন ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন এবং পরে শহরের একটি বর্ণাঢ্য জনসচেতনতামূলক র্যালিতে অংশ নেন। তিনি জানান, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশা নির্মূলে ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একযোগে কাজ চলছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক সরাসরি মাঠে নেমেছেন। র্যালি শেষে সাংবাদিকরা গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে প্রশ্ন করলে রাশেদ খাঁন ক্ষোভ প্রকাশ করে পুরো ঘটনার পেছনে জামায়াতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালানো আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর দলটির রাজনীতি একপ্রকার নিষিদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে গুলশানের মতো কড়া নিরাপত্তার জায়গায় ২০ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী নিয়ে মিছিল করার সাহস তারা কোত্থেকে পেল? তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এর পেছনে জামায়াতের সুনির্দিষ্ট সবুজ সংকেত রয়েছে। তাদের অভয় পেয়েই ক্ষমতাচ্যুত দলের দোসররা বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বক্তব্যে অতীত রাজনীতির পাতা খুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের এই গোপন বন্ধুত্ব নতুন কিছু নয়। ১৯৯৬ সালেও আমরা দেখেছি, তৎকালীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে হটাতে জামায়াত কীভাবে আওয়ামী লীগের সাথে সুর মিলিয়ে একমঞ্চে আন্দোলন করেছিল। সেই সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দুই দল মিলে দেশে নৈরাজ্য তৈরি করেছিল। ইতিহাস প্রমাণ করে, ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করতে জামায়াত যেকোনো সময় যেকোনো শক্তির সাথে হাত মেলাতে দ্বিধাবোধ করে না। আজও তারা সেই পুরোনো খেলায় মেতে উঠেছে।
জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, কতিপয় জামায়াত নেতা মিডিয়ার সামনে বলছেন আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এটি অত্যন্ত রহস্যজনক ও গণবিরোধী অবস্থান। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দেশের প্রায় ৯৫% জনগণ ফ্যাসিবাদের রাজনীতি চিরতরে প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা বিগত দেড় দশকে হাজার হাজার মানুষকে খুন করেছে এবং দেশ থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে, তাদেরকে এ দেশের মাটিতে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। জনগণ তাদের কোনোভাবেই পুনর্বাসিত হতে দেবে না।
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া সচেতনতামূলক র্যালিতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ঝিনাইদহের মাটিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের আর কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। যেকোনো ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সবশেষে রাশেদ খাঁন বলেন, ডেঙ্গুর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি রাজনৈতিক অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য নানামুখী আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্রান্ত চলছে। কোনো দল যদি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন দেওয়ার ১% সুযোগও তৈরি করে দেয়, তবে সাধারণ জনগণ তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে। তিনি গণতন্ত্রকামী সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
















