সব সমালোচনা পেছনে ফেলে বীরগঞ্জে নিজের শক্ত অবস্থান গড়েছেন সাংবাদিক রুবেল

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

মফস্বল শহরে সাংবাদিকতা করা সহজ কাজ নয়। এখানে পদে পদে থাকে বাধা, নানা পক্ষ থেকে আসে চাপ আর অযাচিত সমালোচনা। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম সরকার রুবেলও এর বাইরে ছিলেন না। তবে পেছনের সব কটুকথা আর সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে তিনি নিজের কাজে মগ্ন থেকেছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প তুলে ধরে বীরগঞ্জের মাটিতে তিনি এখন নিজের একটি পোক্ত পরিচয় তৈরি করেছেন। তাঁর এই পথচলা প্রমাণ করে, একাগ্রতা থাকলে মাঠের সাংবাদিকতায় টিকে থাকা অসম্ভব কিছু নয়।

২০১৮ সালে বীরগঞ্জে সাংবাদিকতার জগতে পা রাখেন রুবেল। প্রায় ৭ বছর আগের সেই শুরুর দিনগুলো মোটেও মসৃণ ছিল না। তিনি প্রথমে কাজ শুরু করেন ‘দৈনিক আলোকিত সকাল’ পত্রিকার বীরগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে। এরপর অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে তিনি যুক্ত হন ‘দৈনিক আলোকিত নিউজ’ ও ‘জাতীয় অর্থনীতি’ পত্রিকায়। শুরুর দিকে তিনি শুধু বীরগঞ্জ সদরে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে উপজেলার প্রত্যন্ত ১১টি ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে ঘুরেছেন। কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য, গ্রামীণ ভাঙাচোরা রাস্তা আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যা নিয়ে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করেন। বর্তমানে তিনি ‘বিজয়২৪’-এর দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খবরের পেছনে ছুটছেন।

মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বীরগঞ্জের নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির খবর প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়েছেন। অনেক সময় নানা অপবাদ দিয়ে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু রুবেল কখনো পিছপা হননি। তিনি ১০০% সততা বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। সহকর্মীরা জানান, এলাকায় যেকোনো বড় ঘটনা ঘটলে রুবেল মোটরসাইকেল নিয়ে সবার আগে সেখানে পৌঁছে যান। সব প্রতিকূলতাকে তিনি নিজের পেশাগত জীবনের বড় শক্তি মনে করেন।

সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ৩ বছর আগে রুবেল এক চমৎকার উদ্যোগ নেন। বীরগঞ্জের একঝাঁক তরুণ ও উদ্যমী সংবাদকর্মীদের সাথে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ‘বীরগঞ্জ সাংবাদিক সংস্থা’। বর্তমানে তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বীরগঞ্জের প্রায় ৮০% স্থানীয় সাংবাদিককে এক প্ল্যাটফর্মে এনে পেশাগত ঐক্য গড়ে তুলতে সংগঠনটি কাজ করছে। সংগঠনটির মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত মান বাড়াতে এবং কোনো সংবাদকর্মী বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি তিনি বীরগঞ্জে চালু করেছেন।

রুবেল কেবল সংবাদের পেছনেই ছোটেন না, তিনি বীরগঞ্জের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের বিপদেও পাশে দাঁড়ান। নিজের মাসিক আয়ের প্রায় ১০% থেকে ১৫% টাকা তিনি গোপনে এলাকার গরিব মানুষের চিকিৎসায় কিংবা পড়াশোনার খরচে দিয়ে দেন। করোনাকালে কিংবা তীব্র শীতের সময় তিনি নিজের সাধ্যমতো শত শত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও গরম কাপড় বিলিয়ে দিয়েছেন। এলাকার এক বয়োবৃদ্ধ জানান, গভীর রাতে কেউ অসুস্থ হলে বা হাসপাতালে রক্তের দরকার পড়লে রুবেল ভাই ঠিকই পাশে এসে দাঁড়ান। এই মানবিক গুণ তাঁকে বীরগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে আরও আপন করে তুলেছে।

যেকোনো কাজ করতে গেলে সমালোচনা থাকবেই। মোয়াজ্জেম সরকার রুবেলকে নিয়েও বীরগঞ্জের স্থানীয় মহলে নানা সময় ভুল বোঝাবুঝি ও সমালোচনা হয়েছে। তবে তিনি মুখের কথায় কখনো তর্কে জড়াননি। নিজের কাজ দিয়ে প্রতিটি সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন সংবাদকর্মীর আসল পরিচয় তৈরি হয় তাঁর কলমে এবং জনতার প্রতি দায়বদ্ধতায়। এই ইতিবাচক মনোভাবের কারণেই আজ সাধারণ মানুষ তাঁকে এক নামে চেনে ও ভরসা করে।

বীরগঞ্জের মোয়াজ্জেম সরকার রুবেলের এই পথচলা মফস্বলের তরুণ সাংবাদিকদের জন্য দারুণ এক অনুপ্রেরণা। কোনো বড় ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই শুধু ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রমের জোরে কীভাবে নিজের শক্ত অবস্থান গড়া যায়, রুবেল তারই এক বড় প্রমাণ। রুবেল বলেন, সমালোচনা থাকবেই, কিন্তু সাংবাদিকদের সবসময় সত্যের পক্ষে কথা বলতে হবে। তিনি আগামী দিনগুলোতেও বীরগঞ্জ তথা গোটা দিনাজপুরের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জাতীয় পর্যায়ে সাহসের সাথে তুলে ধরতে চান।

সম্পর্কিত নিবন্ধ