শৈলকুপায় ২টি চোরাই গরু ও নগদ ১ লাখ ১১ হাজার টাকাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ৩, পরোয়ানার আরও ২ জন আটক

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের এক নারীসহ ৩ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ২টি চোরাই গরু এবং চুরির গরু বিক্রির নগদ ১,১১,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই দিনে পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আরও ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শনিবার শৈলকুপা থানার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ও রাতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। পুলিশের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকার সাধারণ কৃষক এবং খামারিদের মাঝে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটে গেছে এবং নতুন করে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর শৈলকুপা থানায় দণ্ডবিধির ৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় একটি গৃহপ্রবেশ ও চুরির মামলা নথিভুক্ত হয়, যার মামলা নম্বর ১১। ঘটনাটি জানার পরপরই শৈলকুপা থানা পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে জোর তদন্ত শুরু করে। প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১২ সেপ্টেম্বর শৈলকুপার বিভিন্ন গ্রামে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শ্রীরামপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ জোসনা খাতুন (৩৩), পদমদি গ্রামের মোঃ কামরুল মন্ডলের ছেলে সুমন মন্ডল (২৭) এবং একই শ্রীরামপুর গ্রামের শওকত আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ সোহাগ আলী মন্ডল ওরফে গহরকে (৩৬) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা সরাসরি চুরির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এরপর তাদের দেখানো গোপন স্থান থেকে চুরি হওয়া ২টি তাজা গরু উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চুরির অন্য একটি গরু স্থানীয় হাটে বিক্রি করে পাওয়া নগদ ১,১১,০০০ টাকাও পুলিশ জব্দ করে। উদ্ধার করা গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকারও বেশি, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় $১,৬০০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সহজ-সরল কৃষকদের নিশানা করে আসছিল। তারা রাতের বেলা গোয়ালঘরের তালা বা বেড়া কেটে নিঃশব্দে গরু বের করে নিয়ে যেত এবং ভোর হওয়ার আগেই দূরের কোনো বাজারে অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করে দিত।

এদিকে গরু চোর চক্রকে ধরার পাশাপাশি থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পরোয়ানাভুক্ত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে শৈলকুপা থানা পুলিশ। তারা হলেন শৈলকুপা থানার সিআর-৩১৬/২৫ নম্বর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি ভগবাননগর গ্রামের আওলাদ আলী বিশ্বাসের ছেলে মোঃ রজব আলী এবং শৈল সিআর-৩২৯/২৬ নম্বর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি অচিন্তপুর গ্রামের মোঃ মশিউর রহমানের ছেলে মোঃ রবিন হাসান (২৬)। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন।

শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে সম্প্রতি গরু চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ কৃষকরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন। অনেক কৃষক নিজেদের শেষ সম্বল বাঁচাতে পালা করে রাত জেগে গোয়াল পাহারা দিতেন। গ্রামবাসীর মতে, স্থানীয়ভাবে প্রায় ৬০% থেকে ৭০% মানুষ কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালনের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। ফলে গরু চুরির মতো অপরাধ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। গরু ও নগদ টাকা উদ্ধারের খবরে শ্রীরামপুর ও আশপাশের গ্রামের খামারিরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা পুলিশের এই দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকাকে সাধুবাদ জানান এবং রাতের টহল আরও জোরদার করার অনুরোধ করেন।

অভিযান প্রসঙ্গে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সবসময় জিরো টলারেন্স নীতি মেনে কাজ করছে। কোনো চোর বা অপরাধী যাতে ছাড় না পায়, সেজন্য শৈলকুপা থানা পুলিশের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। গরু চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ শতভাগ নিষ্ঠার সাথে মাঠে নামে এবং চোর চক্রের তিন সদস্যসহ নগদ ১,১১,০০০ টাকা ও ২টি গরু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। চক্রটির সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অন্য কোনো চোরাই গরু থাকলে তাও উদ্ধারে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির সকলকেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ