শৈলকুপায় জামায়াতের বিশাল গণসংযোগ: পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মাঠে জেলা ও উপজেলা নেতারা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরতে বড় ধরনের গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শুক্রবার আসরের নামাজের পরপরই পৌর এলাকার কবিরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই কর্মসূচি শুরু হয়। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে হাত মেলান এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমর্থক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন, যার ফলে পুরো পৌর এলাকায় এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ও উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়।

এই গণসংযোগে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ আব্দুল আলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য এবং শৈলকুপা উপজেলা জামায়াতের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারককারী মুহাদ্দিস মাওলানা মো. রবিউল ইসলাম। এ সময় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির এ এস এম মতিউর রহমান। শীর্ষ নেতাদের কাছে পেয়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে দারুণ উদ্দীপনা দেখা যায়। নেতারা শৈলকুপা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে হেঁটে হেঁটে দোকানে দোকানে যান এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের লক্ষ্য ও আদর্শের কথা খোলামেলাভাবে ব্যাখ্যা করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাঠ গোছানোর বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে। গণসংযোগে পৌরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জনসংযোগ করেন জামায়াত মনোনীত শৈলকুপা পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ ছাড়া ৫ নম্বর কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ১ নম্বর ত্রিবেণী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান লতা নিজ নিজ এলাকার বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলকার নাঈম, পৌর জামায়াতের তদারককারী ইঞ্জিনিয়ার আমিরুল ইসলাম, পৌর আমির মো. তোরাবুল ইসলাম এবং পৌর সেক্রেটারি মো. মাসুদুর রহমান।

গণসংযোগ চলাকালে নেতারা বাজারের ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বেচাকেনার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ক্ষোভের কথা শুনে জামায়াত নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে, তাতে খেটে খাওয়া মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের ($) দাম বাড়ার অছিলা দেখিয়ে একশ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ফলে সাধারণ মানুষের জমানো আয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে খাবার জোগাড় করতে। কৃষকেরা জমিতে সেচ ও সারের পেছনে বিপুল টাকা খরচ করেও শেষ পর্যন্ত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংক্ষিপ্ত পথসভায় জেলা নায়েবে আমির মোহাম্মদ আব্দুল আলিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় গণমানুষের অধিকার আদায়ে অবিচল ছিল এবং থাকবে। আমরা সমাজে শতভাগ (১০০%) ন্যায়বিচার, সামাজিক ইনসাফ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। শৈলকুপার মাটিতে কোনো চাঁদাবাজি, জুলুম কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি আর চলবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থের রাজনীতি করে না, বরং দেশের মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে। তিনি শৈলকুপার সর্বস্তরের মানুষকে ভয়হীনভাবে সত্যের পক্ষে এগিয়ে আসার এবং আগামী দিনে জামায়াতের হাতকে শক্তিশালী করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

কবিরপুর জামে মসজিদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক, কাপুড়িয়া পট্টি ও কাঁচাবাজার প্রদক্ষিণ করে শৈলকুপা বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। গণসংযোগ চলাকালে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে নেতারা সরাসরি কুশল বিনিময় করেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানান, শৈলকুপা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই পর্যায়ক্রমে এমন গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন নয়, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই জামায়াতের মূল উদ্দেশ্য বলে নেতারা মন্তব্য করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ