ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মাদকের ভয়াল থাবা ও অপরাধ দমনে দিন-রাত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে থানা পুলিশ। এই অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়া দুই মাদকসেবীকে সরাসরি বিজ্ঞ আদালতে পাঠালে বিচারক তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে শৈলকুপা পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে আরও এক ব্যক্তিকে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করেছে পুলিশ। হঠাৎ এমন কড়া পদক্ষেপে উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা থানা পুলিশের বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে নায়েব মোল্লা ও সাবু শেখ নামের দুই ব্যক্তিকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে। এরপর দ্রুত তাদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক সমস্ত তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে শেখপাড়া গ্রামের মৃত একদিল মোল্লার ছেলে নায়েব মোল্লাকে ৪ মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেই সাথে তাকে ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, যা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ৭ দিন অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে। অন্যদিকে গোবিন্দপুর গ্রামের মাসুদ শেখের ছেলে সাবু শেখকে আদালত ৪ মাসের কারাদণ্ড এবং ১,০০০ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ১৫ দিন কারাভোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদকের এই অভিযানের পাশাপাশি শৈলকুপা পৌর এলাকা থেকে মো. রাসেল মন্ডল নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। রাসেল কবিরপুর গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বাজারে পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা প্রয়োগ করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তাকেও শৈলকুপা থানা থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সরাসরি আদালতে পাঠানো হয়েছে। পৌরসভার বাসিন্দারা জানান, বাজারে কিছু বখাটের কারণে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারত না। পুলিশের এমন পদক্ষেপে পৌর এলাকার পরিবেশ অনেকটাই শান্ত হয়েছে।
শৈলকুপার স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদকের কারণে পরিবারগুলোতে দিন দিন অশান্তি বাড়ছিল। স্থানীয়দের দাবি, মাদকের পেছনে তরুণ সমাজের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে ১০০ ডলার বা তারও বেশি ক্ষতির সমান প্রভাব ফেলে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, মাদকসেবীদের ৮০% থেকে ৯০% কোনো না কোনো ছোটখাটো অপরাধ বা চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাই শুরুতেই এদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে।
মাদকবিরোধী এই কার্যক্রম নিয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা শৈলকুপাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও মাদকমুক্ত রাখতে চাই। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান শতভাগ কঠোর এবং অপরাধীদের প্রতি আমরা ০% ছাড় দেব। পুলিশ সদস্যরা দিন নেই, রাত নেই উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নজরদারি রাখছেন। যেখানেই মাদকের খবর মিলবে, সেখানেই পুলিশের দল হাজির হবে। কোনো অপরাধীকেই আইনের চোখ ফাঁকি দিতে দেওয়া হবে না। সমাজের সাধারণ মানুষ যেন রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই শৈলকুপা থানা পুলিশ অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের নির্দেশে শুধু পৌর শহর নয়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামেও এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের মূল ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ধরে এখন কাজ করছে থানা পুলিশ। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধী যাতে এলাকায় নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও মাদকের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সরাসরি সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ।
















