রোকনুজ্জামান, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ):
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর মডেল থানায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান দায়িত্ব গ্রহণ করেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সাংবাদিকদের সাথে এক জরুরি মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কোটচাঁদপুর মডেল থানার ওসির কার্যালয়ের মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল এলাকার অপরাধ দমন এবং মাদক নির্মূলে পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে একটি মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলা। ওসি বিশ্বাস করেন, পুলিশ এবং সাংবাদিক যদি একে অপরের সহযোগী হয়ে কাজ করে, তবে কোটচাঁদপুর থেকে অপরাধ ১০০% নির্মূল করা সম্ভব।
সভার শুরুতে নবাগত ওসি মেহেদী হাসান উপস্থিত সকল সংবাদকর্মীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হন। তিনি বলেন, একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গড়তে হলে পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে মাদক এবং কিশোর গ্যাং-এর মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো নিয়ন্ত্রণে তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, কোনো বিশেষ পরিচয় দিয়ে সে পার পাবে না। পুলিশের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে এবং হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা হবে। ওসির এই সাহসী ও জনবান্ধব বক্তব্যে সাংবাদিকরা তাকে অভিনন্দন জানান।
এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় দুটি প্রধান সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রেসক্লাব কোটচাঁদপুর এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কাজী মৃদুল, আলমগীর হোসেন, খন্দকার আব্দুল্লাহ বাশার এবং আপেল মাহমুদ। এছাড়া আনোয়ার জাহিদ জামান, রেজাউল ইসলাম ও সোহেল চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। ওসির এই আহ্বানকে তারা ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন এবং প্রশাসনের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সময় আলোচনা হয়। ওসি মেহেদী হাসান জানান, কোটচাঁদপুরকে মাদকমুক্ত করতে তার প্রশাসন ১০০% জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে। তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কোনো আপস নেই। আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি যে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এলাকার মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ অন্তত ৮০% কমিয়ে আনা হবে।” তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, তারা যেন মাঠ পর্যায়ের এবং পুলিশের অগোচরে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় সকল মাদকের খবর দ্রুত ওসিকে জানান। এতে করে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং বড় কোনো অঘটন ঘটার আগেই তা ঠেকানো যাবে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কোটচাঁদপুরের বিভিন্ন জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রাতে পুলিশি টহল বাড়ানো এবং যানজট নিরসনের বিষয়ে ওসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সাংবাদিক খন্দকার আব্দুল্লাহ বাশার বলেন, পুলিশ যদি স্বচ্ছতা ও সততার সাথে কাজ করে, তবে সাংবাদিকরা তাদের পাশে ১০০% থাকবে। সংবাদকর্মীরা আশ্বাস দেন যে তারা সবসময় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশন করবেন এবং ভিত্তিহীন কোনো তথ্য প্রচার করে পুলিশের কাজে ব্যাঘাত ঘটাবেন না। সাংবাদিকরা আরও বলেন যে, কোটচাঁদপুরের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সজিব আহমেদ মুকুল, ফারুক হোসেন বকুল এবং জাকির হোসেন। এছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেন, আবুল হাসান এবং কামরুজ্জামান সিদ্দিকসহ অনেকে গঠনমূলক পরামর্শ দেন। সাংবাদিক শামীম হোসেন এবং আবু সুফিয়ান শান্তি পুলিশের কাছ থেকে দ্রুত তথ্য পাওয়ার দাবি জানান যাতে সংবাদের গুণগত মান বজায় থাকে। নবাগত ওসি সাংবাদিকদের এই দাবির সাথে একমত পোষণ করেন এবং একটি দ্রুত তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বর্তমান আধুনিক সময়ে পুলিশের সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি নিরলস কাজ করবেন।
ওসি মেহেদী হাসান তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলের সফলতার গল্প শোনান এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। সিসিটিভি ক্যামেরা এবং আধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে অপরাধীদের ধরা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি আশ্বাস দেন যে, কোটচাঁদপুর মডেল থানায় এসে কোনো সাধারণ মানুষ যেন অহেতুক ভয়ের শিকার না হয়, সেদিকে তিনি কড়া নজর রাখবেন। ওসির এমন আন্তরিক ও পেশাদার আচরণ উপস্থিত সাংবাদিকদের মনে এক নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
পরিশেষে, একটি নিরাপদ ও সুন্দর কোটচাঁদপুর গড়ার শপথ নিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে। নবাগত ওসি মেহেদী হাসান উপস্থিত সকল সাংবাদিককে তাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন মতবিনিময় করার প্রতিশ্রুতি দেন। সাংবাদিকরা কোটচাঁদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একটি সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভাটি শেষ হয়। এলাকার সাধারণ মানুষও আশা করছে, নতুন ওসির নেতৃত্বে কোটচাঁদপুর হবে একটি শান্ত ও অপরাধমুক্ত জনপদ।
















