ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় অপরাধ দমন এবং মাদক নির্মূলে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দিন ও রাতভর পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে পুলিশ ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন দীর্ঘদিনের সিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং বাকি ৩ জন চিহ্নিত মাদকসেবী। পুলিশ এই অভিযানে শতভাগ (১০০%) সফলতার দাবি করেছে এবং ধৃত ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অভিযানের শুরুতেই পুলিশ শৈলকুপার কৃষ্ণপুর এলাকা থেকে পরোয়ানাভুক্ত আসামি মোঃ আজিজ হোসেনকে গ্রেফতার করে। আজিজ হোসেনের পিতার নাম আজিজুল রহমান। তিনি শৈল সিআর ৯৫৬/২৫ মামলার একজন পলাতক আসামি ছিলেন। দীর্ঘদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজিজের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং তাকে পাকড়াও করে। পুলিশ জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতে তারা বিশেষ তালিকা তৈরি করে কাজ করছে এবং এই গ্রেফতার সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।
একই দিনে শৈলকুপা থানা পুলিশের আরেকটি শক্তিশালী দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালায়। বর্তমান সময়ে যুবসমাজ মাদকের কবলে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছিল। এই অভিযানে হাতেনাতে ৩ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করে পুলিশ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন চরগোলকনগর গ্রামের মোঃ সাহেব আলী মন্ডলের ছেলে মোঃ সামাদ হোসেন (২২), কচুয়া আদিবাসিপাড়ার শ্রী বিদ্যুৎ কুমার মিস্ত্রীর ছেলে শ্রী অন্তর কুমার (২০) এবং দুধসর গ্রামের মোঃ শরিফুল ইসলাম বিদ্যুতের ছেলে সোহেল সাজ্জাত ইমন ওরফে জার্মান (৩০)।
পুলিশ এই মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এরপর তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। আদালতের রায়ে সামাদ হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে তাকে আরও ১০ দিন অতিরিক্ত জেল খাটতে হবে। অন্যদিকে, অন্তর কুমারকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ২০০/- টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানে গ্রেফতার হওয়া তৃতীয় মাদকসেবী সোহেল সাজ্জাত ইমন ওরফে জার্মানকে আদালত ৭ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তাকে ১,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং এই টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত ১৫ দিন কারাগারে থাকতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এবং কঠোর শাস্তির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের সাজার খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য মাদকসেবীরা অন্তত আইনের ভয়ে হলেও এ পথ থেকে ফিরে আসবে।
শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা জেলাকে অপরাধ ও মাদক মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। আমাদের এই দিন-রাতব্যাপী অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সমাজে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং মাদকের ব্যবসায় যুক্ত, তাদের আমরা কোনোভাবেই ছাড় দেব না। পুলিশ ও জনগণের মাঝে দূরত্ব কমিয়ে আমরা অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করছি। অভিযানে প্রাপ্ত ১,০০০/- টাকার জরিমানা বা ৬ মাসের কারাদণ্ড বড় কথা নয়, বরং বড় কথা হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
বর্তমানে শৈলকুপা উপজেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশ সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও কামনা করছে। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এই অগ্রযাত্রায় গ্রামের মোড়ল থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অভিযানের ফলে এলাকায় অপরাধীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে ঝিনাইদহ জেলার প্রতিটি থানায় এ ধরনের সাড়াঁশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোনো অপরাধীই যাতে আইনের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
















